হলান্ডের কাঁধে নরওয়ের বিশ্বকাপ আশা
রাশেদুর রহমান
নরওয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নাম কুড়িয়েছিল ১৯৯৮ সালে। সে বছর ব্রাজিল ছিল দুর্দান্ত এক দল। দুঙ্গার নেতৃত্বে খেলেছিলেন বেবেতো, রিভালদো, রোনালদো, রবার্তো কার্লোসরা। মারিও জাগালো ছিলেন কোচ। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ জেতা দলটার অনেকেই ছিলেন এই দলে। এই ব্রাজিলকে এ গ্রুপের খেলায় হারিয়ে দেয় নরওয়ে। টোর আন্দ্রে ফ্লো এবং আন্দ্রে রেকডালের গোলে জয় পেয়েছিল তারা। চমকে উঠেছিল বিশ্ব ফুটবল। অথচ সেই বিশ্বকাপে নরওয়ে তৃতীয়বারের মতো খেলতে এসেছিল। এর আগে ১৯৩৮ ও ১৯৯৪ সালে বিশ্বকাপ খেলে তারা।
দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে নরওয়ে। তবে এবার নরওয়ে শুধুই অংশ নিতে আসছে না। দলটি আসছে স্বপ্ন নিয়ে। সেই স্বপ্নের কেন্দ্রে আছেন গোলমেশিন আরলিং হলান্ড। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে টানা জয় নিয়ে মূল পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। বাছাইয়ে আট ম্যাচে ১৬ গোল করেছেন হলান্ড। ইউরোপিয়ান অঞ্চলে তিনিই ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা। বর্তমান নরওয়েকে বলা হচ্ছে ‘গোল্ডেন জেনারেশন’। কারণ, হলান্ডের পাশাপাশি আছেন মার্টিন ওডেগার্ডের মতো সৃজনশীল মিডফিল্ডার। কোচ স্টেল সোলবাকেন বিশ্বাস করেন, এই দলটির মধ্যে রয়েছে বিশেষ কিছু করার সামর্থ্য। ইতালিকে ৩-০ গোলে হারানোর ম্যাচকে তিনি নরওয়ের ফুটবল জাগরণের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
হলান্ডের কাঁধে নরওয়ের বিশ্বকাপ আশাতবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নরওয়ের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। গ্রুপ ‘আই’-এ তাদের প্রতিপক্ষ শীর্ষ ফেবারিট ফ্রান্স। আছে আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল সেনেগাল এবং এশিয়ার চমক ইরাক। বিশেষ করে ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচটিকে ইতোমধ্যেই ‘গ্রুপের ফাইনাল’ বলা হচ্ছে। তবু নরওয়ের আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ হলান্ড। এক সাক্ষাৎকারে হলান্ড বলেছেন, নরওয়ের দলে এখন ‘বিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও গুণগত মান’ আছে। তার ভাষায়, ‘আমরা শুধু বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছি না, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছি।’
মাত্র ২৫ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন হলান্ড। তার গোল করার ক্ষমতাকে অনেকেই তুলনা করছেন কিংবদন্তিদের সঙ্গে। ক্লাব ফুটবলে যেমন ধারাবাহিক, জাতীয় দলেও তেমন ভয়ংকর। ইতোমধ্যে নরওয়ের ইতিহাসের অন্যতম সফল গোলদাতা হয়ে উঠেছেন তিনি। মাত্র ৪৯ ম্যাচ খেলেই করেছেন ৫৫ গোল। ক্লাব ফুটবলে মোট ৩৯৮ ম্যাচে করেছেন ৩১৭ গোল।
নরওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাস অবশ্য খুব সমৃদ্ধ নয়। ১৯৩৮, ১৯৯৪ ও ১৯৯৮-এ তিনবার খেলেছে তারা। সেরা সাফল্য ১৯৯৮ সালে শেষ ষোলোতে ওঠা। সেই আসরে ব্রাজিলকে হারিয়ে চমক দেখালেও নকআউট পর্বের শুরুতেই ইতালির কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল নরওয়ে। এরপর প্রায় তিন দশক বিশ্বকাপের বাইরে কাটাতে হয়েছে তাদের। দীর্ঘদিন পর ফিরে কি নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে নরওয়ে? এবারের দলটি নিয়ে নরওয়েজিয়ান সমর্থকদের আশা অনেক বড়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সেই উন্মাদনা স্পষ্ট। অনেক সমর্থক বিশ্বাস করছেন, ফ্রান্সের পর গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউটে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে নরওয়ের।
বিশ্বকাপে বড় তারকার অভাব নেই। কিন্তু এবারের আসরে যেসব ফুটবলারকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনার সম্ভাবনা, তাদের প্রথম সারিতেই থাকবেন হলান্ড। বিশ্বকাপ মঞ্চে এটিই তার প্রথম অংশগ্রহণ। নরওয়ের গোলমেশিন কি নতুন কোনো দিগন্তের উন্মোচন করবেন বিশ্বকাপে!
