৫ টাকার মোটরসাইকেলের টোল নিয়ে ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ!
শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র সেতুর টোলপ্লাজায় মোটরসাইকেলের মাত্র পাঁচ টাকা টোল দেওয়া নিয়ে হামলা ও শেরপুর-জামালপুর সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার ঘণ্টারও বেশি সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যানবাহনের যাত্রী, চালক ও অন্যদের। উত্তেজিত জনতা ব্রহ্মপুত্র সেতুতে টোল আদায় বন্ধেরও দাবি জানান। এ ঘটনায় এক সাংবাদিক ও তাঁর ছেলেকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, টোলপ্লাজার কর্মীরা প্রায় প্রতিদিনই কারও না কারও সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। তবে রাতেই বিএনপি নেতা হযরত আলী এবং শেরপুর ও জামালপুর জেলার স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত শেরপুর-জামালপুর সীমান্তের জামালপুর অংশে অবরোধ চলছিল।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামালপুরের স্থানীয় সাংবাদিক ফরিদুল ইসলামের ছেলে সাদিকুর রহমান সুমন গতকাল সন্ধ্যায় তাঁর বাবার মোটরসাইকেলে দুই বন্ধুকে নিয়ে ব্রহ্মপুত্র সেতুতে ঘুরতে আসেন। এ সময় সেতুর টোলপ্লাজার সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে পৌঁছালে তাঁদের কাছে পাঁচ টাকা টোল দাবি করা হয়। তাঁরা সেতুতেই থাকবেন জানিয়ে টোল দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন সুমন।
ঘটনার খবর পেয়ে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী টোলপ্লাজায় গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। এ সময় তাঁদের ওপরও হামলা চালান টোলপ্লাজার কর্মীরা। এতে জামালপুরের সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম তুফান আহত হন।
পরে খবর পেয়ে আহত সাংবাদিকের স্বজন ও সুমনের বন্ধুরা ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা প্রথমে জামালপুর শহরের বন্দেরবাড়ী এলাকায় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র সেতুর জামালপুর অংশের টোলপ্লাজার সামনে সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে শেরপুর ও জামালপুর জেলার পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় একটি সমঝোতা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ভুক্তভোগী সুমন বলেন, ‘টাকা দিতে দেরি করায় আমাকে মারধর করা হয়েছে। যারা আমাকে মেরেছে, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’
টোলপ্লাজার ম্যানেজার ওসমান আলী বলেন, ‘আমাদের লোকজনের ওপর প্রথমে হামলা হয়েছে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।’
শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর দুই জেলার পুলিশ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তবে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ছেলে বা অন্য কেউ এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
