অনুশীলনের জন্য মিলছে না এক টুকরো জায়গা প্র্যাকটিস ছাড়াই জাতীয় পর্যায়ে নুর জামান
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি :
একসময় যে জেলা থেকে উঠে আসত দেশসেরা টেবিল টেনিস খেলোয়াড়রা, আজ সেই জেলাতেই অনুশীলনের জন্য মিলছে না এক টুকরো জায়গা। ট্রফিতে ঠাসা আলমিরা আর বুকভরা আক্ষেপ নিয়ে দিনাজপুরের টেবিল টেনিস তারকা নুর জামান (৩৮) জানালেন এক করুণ বাস্তবতার কথা। দীর্ঘ ৮ বছর পর কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই তিনি নামতে যাচ্ছেন জাতীয় টেবিল টেনিস টুর্নামেন্টের মঞ্চে।
সদরের মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা নুর জামানের হাতেখড়ি হয়েছিল বড় ভাইয়ের কাছে। ১০ বার জাতীয় পর্যায়ে খেলেছেন, জেলায় হয়েছেন বারবার চ্যাম্পিয়ন। শুধু নুর জামানই নন, তার চার ভাই-ই এই খেলার সঙ্গে যুক্ত। অথচ আজ সেই জেলায় নতুন খেলোয়াড় তৈরি হওয়া তো দূরে থাক, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই চেনে না এই খেলাটিকে।
নুর জামান বলেন, এখনকার প্রজন্ম টেবিল টেনিস খেলা তো দূরের কথা, খেলাটার সঙ্গে পরিচয়ই নেই অনেকের। নতুনদের উৎসাহিত করতে আমি শেষমেশ খেলার সামগ্রীর দোকানই দিয়েছি।
খেলোয়াড়দের দাবি, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আর অনুশীলনের জায়গা বন্ধ হয়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। একসময় শহরের হেমায়েত আলী হল ছিল টেবিল টেনিসের প্রাণকেন্দ্র। ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হলটিকে কেন্দ্র করে আশির দশকে ‘সচেতন সংঘ’ তৈরি করেছিল শত শত তারকা খেলোয়াড়। ২০০৬ সালের পর থেকে সেখানে অনুশীলন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে এই ইনডোর গেমটি।
আগামী ৯ জানুয়ারি ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় টুর্নামেন্ট। কোনো কোচ নেই, নেই নিয়মিত প্র্যাকটিস টেবিল, তবুও খেলার টানে ঢাকা যাচ্ছেন নুর জামান ও তার সঙ্গীরা। তাদের লক্ষ্য একটাই- দিনাজপুরের সেই হারানো ঐতিহ্যকে আবার মনে করিয়ে দেওয়া।
সচেতন সংঘের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার জাকির আলী বলেন, আমাদের খেলোয়াড়রা একসময় দেশের টেবিল টেনিসে নেতৃত্ব দিত। আজ পরিবেশ না থাকায় সেই ঐতিহ্য ম্লান হয়ে গেছে।
তবে দীর্ঘ অন্ধকারের পর কিছুটা আশার আলো দেখছেন খেলোয়াড়রা। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, হেমায়েত আলী হল কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুতই অনুশীলনের ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দিনাজপুরের ক্রীড়ামোদীদের প্রশ্ন-আবারো কি মুখরিত হবে হেমায়েত আলী হল? আবারো কি নুর জামানদের হাত ধরে জাতীয় পর্যায়ে উড়বে দিনাজপুরের বিজয় কেতন?
