অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আরো ১৭% বাড়তে পারে
অনলাইন ডেস্ক
ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম আগামী ডিসেম্বরে ১০৫ ডলারে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পণ্যবাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বছরও তেলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকবে।
এর আগের পূর্বাভাসে গোল্ডম্যান স্যাকস জানিয়েছিল, ডিসেম্বরে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার থাকতে পারে। নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, দাম প্রায় ১৭ শতাংশ বাড়তে পারে। জ্বালানি তেল সরবরাহে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়।
ফলে আগের দেওয়া পূর্বাভাস সংশোধন করেছে ব্যাংকটি। এ ছাড়া আগামী বছর ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলার হতে পারে বলে মনে করছে গোল্ডম্যান স্যাকস। এর আগে ব্যাংকটির পূর্বাভাস ছিল ৮০ ডলার। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪৯ শতাংশ বেড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৭২ ডলার ৪৮ সেন্ট। গতকাল সোমবার তা বেড়ে ১০৮ ডলারে দাঁড়ায়। ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাসেও প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপের (এএনজেড) পণ্যবাজার বিশ্লেষকরাও ব্রেন্টের দামের পূর্বাভাস বাড়িয়েছেন। গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে তাঁরা বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ আট মাস ধরে বিঘ্নিত হচ্ছে। এত দিন ধরে খাপ খাইয়ে চলেছে বিশ্ববাজার।
এখন প্রাথমিক ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এএনজেড তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানায়, বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলার হতে পারে। আগের তুলনায় এই পূর্বাভাস ১০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের বহুজাতিক ব্যাংক ইউবিএস জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ব্রেন্টের দাম ১১০ ডলারে পৌঁছতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিকভাবে তেলের দাম কমাতে পারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তিচুক্তি। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক ড্যান স্ট্রুভেন সম্প্রতি এক পর্যালোচনায় বলেন, ‘বাজার থেকে দ্রুত ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য কমাতে হলে কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। বাজারের অংশগ্রহণকারীরা কূটনৈতিক সমাধানকে টেকসই বলে মনে করলে তবেই সমাধান আসবে। তবে বছরের শেষ নাগাদ এমন চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা এখনো কম।
বিভিন্ন ব্যাংকের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে তেলের দামের পূর্বাভাস বাড়ানো হচ্ছে। তবে এর মধ্যেই পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরে এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরাকের রপ্তানি দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেল : তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর জেইহান দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে ইরাক। দেশটির তেল রপ্তানি দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। ওপেকের দ্বিতীয় শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরাক দক্ষিণাঞ্চলের বসরা থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল ট্যাংকারে করে উত্তরের পাইপলাইনে পাঠাচ্ছে।
গতকাল সোমবার কুর্দিস্তান২৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরাকের নর্থ অয়েল কম্পানির এক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাইপলাইনটির কার্যক্রম ফের শুরু হলেও এবারই প্রথম তুরস্কের মাধ্যমে ইরাকের তেল রপ্তানি দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। এর আগে এই পথে দৈনিক প্রায় সাড়ে তিন লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হতো।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে ইরাকের তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গ্রাহকদের কাছে তেল পৌঁছে দিতে দেশটি বিকল্প রপ্তানি পথের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে।
সূত্র : অয়েলপ্রাইস ডটকম
