অপরূপ সুন্দর ‘দেশি সোনাবউ’

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতিতে খুবই পরিচিত ও আদুরে শব্দ ‘সোনাবউ’। এই শব্দের সঙ্গে মিশে আছে পরম আদর, মায়ামমতা, প্রেম-ভালোবাসা। তবে পাখিপ্রেমীদের কাছে সোনাবউ একটি অপরূপ সুন্দর পাখির নাম। হলদে রঙের এই পাখিকে একপলক দেখলে যে কারও মন কাড়বে। এদের ইংরেজি নাম Indian Golden Oriole. আর বৈজ্ঞানিক নাম Oriolus Oriolus.

বিশ্বে ২৭ প্রজাতির বেনেবউ ও সোনাবউ আছে। আমাদের দেশে আছে পাঁচ প্রজাতির। এরা হলো কাজচোখ বেনেবউ, কালামাথা বেনেবউ, সরুঠোঁট বেনেবউ, তামারং বেনেবউ এবং দেশি সোনাবউ। তবে তামারং বেনেবউ ছাড়া অন্য চার প্রজাতি হলুদ বর্ণের। তাই দেশি সোনাবউ পাখিকে অনেকে ভুল করে হলদে পাখি, বেনেবউ, ইষ্টিকুটুম বা কুটুম পাখি নামেও ডাকেন। সম্প্রতি রাজশাহীতে এই দেশি সোনাবউ পাখির ছবিটি তুলেছেন শৌখিন ফটোগ্রাফার শ্রেষ্ঠ সরকার। সোনাবউ পাখির উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার। পুরুষ পাখির ডানার মধ্যে এবং গোড়ার পালক হলুদ। ডানার প্রান্ত-পালক ঢাকনিসহ কালো। পুরো দেহ উজ্জ্বল সোনালি হলুদ। চোখ গাঢ় লাল, পা ও পায়ের পাতা নীল। মেয়ে পাখির পিঠের দিক হলদে-সবুজ। দেহের নিচের দিকে ডোরা। চোখ বাদামি-গাঢ় লাল। এদের প্রজননকাল মার্চ-আগস্ট মাস। এ সময় ৬-১২ মিটার উঁচুতে লম্বা ডালে ঘাস ও আঁশ দিয়ে এরা বাসা বানায়। ২ থেকে ৪টি ডিম পাড়ে। ডিমের রং সাদা। সোনাবউ গাছের ডালে চুপ করে বসে থাকে। মানুষ দেখলে একটু আড়ালে চলে যায়। ভাবটা এমন, যেন নতুন বউকে কেউ দেখে ফেলবে। ডালের অগ্রভাগে চড়তে পছন্দ করে। এদের কালেভদ্রে দেখা যায়। এরা কখনো একা, কখনো জোড়ায় থাকে। রসালো ফল, ফুলের মধু ও পোকা খেয়ে জীবন ধারণ করে। ফটোগ্রাফার শ্রেষ্ঠ সরকার বলেন, সোনাবউ বাংলাদেশের বিরল আবাসিক পাখি। রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলে বেশি রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে কম আসায় এদের দেখা পাওয়া সহজলভ্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights