অবরোধ এড়িয়ে কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ইরানকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ দিচ্ছে রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ সত্ত্বেও ইরানের ড্রোনের যন্ত্রাংশ পেতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। অবরোধ এড়িয়ে কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে ড্রোনের যন্ত্রাংশ দিচ্ছে রাশিয়া।

শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া কাস্পিয়ান সাগরের নৌপথ ব্যবহার করে ইরানে ড্রোনের যন্ত্রাংশ পাঠাচ্ছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম এই হ্রদটি এখন গোপন ও প্রকাশ্য বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই বাণিজ্য পথটি ইরানকে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে সাহায্য করছে। গত মাসে শেষ হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে ইরানের সামরিক শক্তির যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এই পথটি এখন সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, রাশিয়া থেকে এই হারে সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ইরান খুব দ্রুতই তাদের ড্রোনের মজুত পুনরায় পূর্ণ করতে সক্ষম হবে। উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের ড্রোনের প্রায় ৬০ শতাংশই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

কাস্পিয়ান সাগর মূলত একটি সেতুর মতো কাজ করছে, যা দেশ দু’টির মধ্যে সরাসরি সীমান্ত না থাকা সত্ত্বেও তাদের সংযুক্ত করেছে। উভয় দেশেরই এই বিশাল হ্রদে দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, এটি রাশিয়া ও ইরানকে প্রকাশ্যে বাণিজ্য করার সুযোগ দিচ্ছে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ হস্তক্ষেপ করার সাহস পাবে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া এমন সব পণ্য পাঠাচ্ছে যা সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। উল্লেখ্য-হরমুজ প্রণালী গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান-উভয় পক্ষ থেকেই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে বর্তমানে শস্য, পশুখাদ্য, সূর্যমুখী তেল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করা হচ্ছে।

প্যারিসের সায়েন্সেস পো (Sciences Po)-এর অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ নিকোল গ্রাজেউস্কি বলেন, ‘আপনি যদি নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং সামরিক সরঞ্জাম হস্তান্তরের জন্য আদর্শ কোনো জায়গার কথা ভাবেন, তবে সেটি হলো কাস্পিয়ান সাগর।’

হাডসন ইনস্টিটিউট থিংক ট্যাঙ্কের সিনিয়র ফেলো লুক কফি বলেন, ‘মার্কিন নীতি নির্ধারকদের কাছে কাস্পিয়ান সাগর যেন একটি ভূ-রাজনৈতিক ব্লাক হোল (কৃষ্ণগহ্বর), এটি অনেকটা এমন যেন এর কোনো অস্তিত্বই নেই।’

সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights