অবৈধ হস্তক্ষেপের কারণে পাহাড়ধস
মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চ
পাহাড় কাটা, বৃক্ষ নিধন, জলবায়ু পরিবর্তন, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবসহ নানা কারণে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে বলে মনে করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল সরোয়ার। তিনি বলেন, পাহাড়ে অবৈধ হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে প্রাণহানি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক মতৈক্য এবং সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়গুলো নরম বালিমাটি দিয়ে গঠিত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতের ধরন পাল্টাচ্ছে। আগে বর্ষাকালে দীর্ঘ সময় নিয়ে ধীরে ধীরে বৃষ্টি হতো। এখন লম্বা খরার পর একসঙ্গে অনেক বৃষ্টি হচ্ছে। অধিক তাপমাত্রার কারণে পাহাড়ের বালিমাটি শুকিয়ে থাকে। এ কারণে বৃষ্টির পানি যখন পড়ে তখন সরাসরি পাহাড়ের ভিতর ঢুকে। দ্রুত পানি শুষে নিয়ে বালিমাটি নরম ও আলগা হয়ে যায়। এ ছাড়া মাটি ও গাছপালা কেটে ন্যাড়া করে ফেলায় সহজেই কেটে নেওয়া অংশে ফাটল ধরছে। বৃষ্টিতে ধসে পড়ছে। বৃষ্টিতে বালিমাটি পানি শুষে যখন অনেক ভারী হয়ে যায়, তখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে ধসে পড়ে। অধ্যাপক ইকবাল সরোয়ার বলেন, ঝুকিপূর্ণ পাহাড় অবৈধ হস্তক্ষেপে আমরা আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে ফেলছি। পাহাড়কে পাহাড়ের মতো থাকতে দিতে হবে। তা না করে আমরা পাহাড় কেটে ফেলছি। ঘরবাড়ি করছি। বসতি গড়ছি। তিনি বলেন- পাহাড় বসবাসের জন্য নয়। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো রক্ষা করতে হবে। কাটা যাবে না। অবৈধ বসতি সরিয়ে দিতে হবে। পাহাড়ের পাদদেশে সাধারণত নিম্ন আয়ের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাস করেন। তাদের একদিনে সরানোর সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে অন্য কোথাও সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পানি নামার পথ নির্বিঘ্ন করে দিতে হবে। প্রচুর গাছ লাগাতে হবে। তাহলে ক্ষতির পরিমাণটা কমিয়ে আনা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের বসতির কারণে কক্সবাজার এলাকার অনেক পাহাড় ও গাছপালা কাটা হয়েছে। সেজন্য সেখানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। পাহাড় রক্ষায় রাজনৈতিক মতৈক্য প্রয়োজন উল্লেখ করে ড. ইকবাল বলেন, দেখা যায় এক সরকারের পরিকল্পনা অন্য সরকারের সময় বহাল থাকে না। ২০০৭ সালে মতিঝরনাসহ চট্টগ্রামের বেশ কটি পাহাড় ধসে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ওই সময় তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। সেই কমিটি স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ৩৬টি সুপারিশ করেছিল। যার অনেকই বাস্তবায়ন হয়নি। পাহাড় কাটা ও অবৈধ বসতি স্থাপন রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন উল্লেখ করে ড. ইকবাল সরোয়ার বলেন, আইন, নীতিমালা সবই আছে। কিন্তু বাস্তবায়ন আশানুরূপ হচ্ছে না। পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান বলছে, তাদের প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। এটি সত্যি হলে লোকবল বাড়াতে হবে। সরকারি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও ভূ-প্রকৃতি নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
