অভিষেকের পর এবার হামলার শিকার তৃণমূলের আরেক এমপি, কী হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আক্রান্ত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের আরও এক শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সংসদ সদস্য। দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঠিক পরদিনই, হুগলির চণ্ডীতলায় নিজের নির্বাচনী এলাকাতেই হামলার মুখে পড়লেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যামেরায় ধরা পড়া ঘটনার দৃশ্যে দেখা গেছে, পুলিশ যখন উত্তেজিত জনতাকে সামলানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই পেছন থেকে কিছু একটা এসে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথায় আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাথায় হাত দিয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।

শ্রীরামপুরের এই চারবারের সাংসদকে আজ সকালে চণ্ডীতলায় কালো পতাকা দেখানো হয় এবং তাকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। এর আগের দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঠিক একই রকম জনরোষের মুখে পড়েছিলেন। তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ হিসেবে মানতে নারাজ। তিনি সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলে দাবি করেছেন, এটি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে করা একটি পরিকল্পিত হামলা। অবশ্য বিজেপির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভোটের পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জমা দিতে আজ সকালে নিজের সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে চণ্ডীতলায় যান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ট্রাফিক জ্যামের কারণে গাড়ি থেকে নেমে তিনি যখন হেঁটে একটি ট্রাকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই পেছন থেকে তার মাথায় আঘাত করা হয়। রাস্তায় পড়ে যাওয়ার পর পুলিশ এবং উপস্থিত নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। পরে মাথায় সাদা কাপড় বাঁধা অবস্থায় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এই প্রবীণ নেতা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, তাকে লক্ষ্য করে ক্রিকেট বল বা পাথর ছোড়া হয়েছিল। এই হামলায় তার কুর্তা ও পায়জামায় রক্ত লেগে যায় এবং রাস্তায় পড়ে থাকার সময় এক সিআরপিএফ কর্মী এসে তাকে উদ্ধার করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ধন্যবাদ জানালেও, রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাদের ‘নীরব দর্শক’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। একইসঙ্গে রাজ্যে ‌‘পুরোপুরি আইনহীনতা’ চলছে এবং তৃণমূল নেতাদের বেছে বেছে নিশানা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এর মাত্র একদিন আগে সোনারপুরে ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে একই রকম ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজাকে সেখানে রীতিমতো ধাক্কাধাক্কি ও হেনস্তা করা হয়। তাকে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়া হয় এবং চারপাশ ‘চোর চোর’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে তড়িঘড়ি ক্রিকেট হেলমেট পরিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরে কলকাতায় এনে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, হেলমেট না থাকলে তার ভাতিজা হয়তো মারাই যেতেন। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই দুই হামলার পেছনেই বিজেপির হাত দেখলেও, বিজেপি সাফ জানিয়ে দিয়েছে এর সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র নেই।

বিজেপির দাবি, এটি আসলে গত ১৫ বছরের অপশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল ও বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ মন্তব্য করেছেন, এতদিন যারা নিজেদের ঈশ্বর ভাবতেন, আজ তাদের দিকেই সাধারণ মানুষ জুতো, ডিম ছুড়ছেন এবং থুতু দিচ্ছেন। ১৫ বছরের এই ক্ষোভের প্রকাশ কোথাও না কোথাও ঘটতই, যা এখন তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের ওপর আছড়ে পড়ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights