অভ্যুত্থানচেষ্টায় দায়ী সবাইকে শাস্তি পেতে হবে: প্রেসিডেন্ট তালোন

অনলাইন ডেস্ক

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস তালোন বলেছেন, তার সরকারের বিরুদ্ধে ঘটানো অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সরকার ও দেশের সশস্ত্র বাহিনী এ চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। অভ্যুত্থানচেষ্টায় দায়ী সবাইকে শাস্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট তালোন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দেওয়া এক ভাষণে এ কথা বলেন প্রেসিডেন্ট তালোন। বেনিনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেসিডেন্টের ভাষণ প্রচার করে।

দেশটির সবচেয়ে বড় শহর কতনোউয়ে গোলাগুলির প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে হাজির হয়ে প্রেসিডেন্ট তালোন অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ঘোষণা দেন।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে তালোন জানান, তার প্রতি অনুগত বাহিনী “অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছে এবং বিদ্রোহীদের শেষ প্রতিরোধ ভেঙে দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “এদের দুঃসাহসিকতার মোকাবিলা আমাদের দেশকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে… এই বিশ্বাসঘাতকতা কোনোভাবেই শাস্তি এড়াতে পারবে না।”

তালোন জানান, অভ্যুত্থানচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি তার সমবেদনা রয়েছে এবং বিদ্রোহীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় যাদের আটক করেছে, তাদের কথাও তিনি ভাবছেন—যদিও তিনি কোনো বিস্তারিত জানাননি। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বা জিম্মির উপস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

এর আগে একদল সেনা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের পর্দায় হাজির হয়ে অভ্যুত্থানের ঘোষণা দেন। বলেন, তারা একত্রে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্যাট্রিস তালোন আর প্রেসিডেন্ট থাকছেন না। সেনাদলটি নিজেদের মিলিটারি ‘কমিটি ফর রিফাউন্ডেশন (সিএমআর)’ হিসেবে পরিচয় দেয়।

বেনিনের সামরিক ও নিরাপত্তা সূত্রগুলোর বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টায় গতকাল সন্ধ্যায় দেশটিতে ডজনখানেক সেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি সূত্র এএফপিকে জানান, গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ১৩ জনকে। আরেকজন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য। অন্যরা সেনাবাহিনীতে কর্মরত।

১০ বছর ধরে বেনিনে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্যাট্রিস তালোন। আগামী এপ্রিলে তাঁর ক্ষমতা ছাড়ার কথা। ওই সময় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। এ পরিস্থিতিতে বেনিনে অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা ছিল এই অঞ্চলের গণতান্ত্রিক শাসনের জন্য সর্বশেষ হুমকি। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সামরিক বাহিনী বেনিনের প্রতিবেশী নাইজার ও বুরকিনা ফাসোর পাশাপাশি মালি ও গিনিতে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে নিয়েছে। গত মাসে গিনি বিসাউয়েও সেনা–অভ্যুত্থান ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights