অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
অস্ট্রেলিয়ায় এখন শীতকাল। রাজধানী ক্যানবেরা, মেলবোর্ন, সিডনি, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেড, পার্থের তাপমাত্রা এখন ১০-১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ঘোরাফেরা করছে। আবহাওয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ার মূল ভেন্যুগুলোতে এফটিপির কোনো খেলা নেই। শুধু নর্দান টেরিটরি ও কুইন্সল্যান্ডের আবহাওয়া কিছুটা উঞ্চ। সেজনই প্র্রদেশ দুটির ডারউইন ও ম্যাকেইতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ টেস্ট ম্যাচ সিরিজ আয়োজন করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ১৩ আগস্ট ডারউইন টেস্ট দিয়ে শুরু হবে সিরিজ। ২২ আগস্ট ম্যাকেইতে দ্বিতীয় টেস্ট। বাংলাদেশ ম্যাচ দিয়ে টেস্ট ভেন্যু হিসেবে অভিষেক হচ্ছে ম্যাকেই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ স্টেডিয়ামের। যদিও এখানে তিনটি ওয়ানডে হয়েছে। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি ভেসে গিয়েছিল বৃষ্টিতে। গত আগস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি ওয়ানডে খেলেছিল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। সে হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একেবারেই অপরিচিত নয় ম্যাকেই। কোরাল উপকূলীয় শহর ম্যাকেইতে নাজমুলরা প্রথমবার খেললেও ডারউইনে খেলেছে ২০০৩ সালে। সেবারই বাংলাদেশ সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলেছিল। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ২৩ বছর পর দ্বিতীয়বার টেস্ট সিরিজ খেলবে। সিরিজ খেলতে গতকাল রাত ১২টায় এক ধাপে ঢাকা ছেড়েছেন ক্রিকেটাররা। আগামীকাল দ্বিতীয় ধাপে যাবে নাজমুল বাহিনী।
নাজমুল বাহিনী ঢাকা ছেড়েছে বোলিংয়ের মূল ভরসা নাহিদ রানা এবং ব্যাটিংয়ের অন্যতম সেরা স্তম্ভ লিটন দাসকে রেখে। ডারউইন টেস্ট মিস করলেও ম্যাকেইতে ফিরতে পারেন লিটন। সাইড স্ট্রেইনের জন্য পুরো সিরিজই মিস করছেন স্পিডস্টার নাহিদ। টেস্ট দুটিতে খেলা হবে ড্রপ ইন উইকেটে। এসব উইকেট হয় পুরোপুরি স্পোর্টিং। বোলার ও ব্যাটাররা সুবিধা পেয়ে থাকেন। ২৩ বছর আগের সিরিজে অসাধারণ বোলিং করেছিলেন স্বাগতিক লেগ স্পিনার স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল। ২ টেস্টে তার উইকেট ছিল ১৭টি। বাংলাদেশের বিপক্ষে অসি লেগ স্পিনারের উইকেট ৪ টেস্টে ৩০টি। অফ স্পিনার নাথান লিওন আছেন এবার। তিনিও দুর্দান্ত। টাইগারদের বিপক্ষে ২ টেস্টে তার উইকেট ২২টি। বাংলাদেশের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স সাকিব আল হাসানের। ২ টেস্টে তার উইকেট সংখ্যা ১২টি। টাইগারদের যে স্কোয়াডটি এবার খেলবে অস্ট্রেলিয়ায়, তারা প্রথমবারের মতো দেশটিতে টেস্ট খেলবেন। যদিও দেশটিতে ওয়ানডে ও টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে অনেকের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, মেহেদি হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার ও তাইজুল ইসলামের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিক ১০৩ টেস্টে রান করেছেন ৬,৮০৬। সেঞ্চুরি ১৪ এবং হাফ সেঞ্চুরি ২৯টি। অসিদের বিপক্ষে ২ টেস্টে তার রান ১৫৮। সাবেক অধিনায়ক মুমিনুলের রান ৭৮ টেস্টে ৫,১৩১। সেঞ্চরি ১৩টি এবং হাফ সেঞ্চুরি ২৮টি। অসিদের বিপক্ষে তার রান এক টেস্টে ৬১। লিটনের রান ৫৪ টেস্টে ৬ সেঞ্চুরিতে ৩,৩৫৬। তিনি এখনো কোনো টেস্ট খেলেননি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। সৌম্য সরকার জাতীয় দলে অনিয়মিত। ১৬ টেস্টে এক সেঞ্চুরিতে ৮৩১ রান সৌম্যর। অসিদের বিপক্ষে ২ টেস্টে তার রান ৬৫। মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল খেলেছেন ২০১৭ সিরিজে। দুজনেই দলের স্পিন কান্ডারি। তাইজুলের উইকেট ৬০ টেস্টে ২৭০টি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬টি। অলরাউন্ডার মিরাজের উইকেট ৫৮ টেস্টে ২১৯টি এবং রান ২,২৩১। অসিদের বিপক্ষে উইকেট ৮টি। অধিনায়ক নাজমুল এই প্রথম টেস্ট খেলবেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ক্যারিয়ারে ৪২ টেস্টে অধিনায়কের রান ৯ সেঞ্চুরিতে ২,৫৭৯। ওপেনার সাদমান ২৮ টেস্টে ১,৪৫২ রান করেন। সফরে দলের সাফল্য নির্ভর করতে মুশফিক, মুমিনুল ও নাজমুলের ব্যাটিংয়ের ওপর। তিনজনই ছন্দে রয়েছেন। দলের ব্যাটিং নিয়ে টাইগার অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের ওপেনাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক বছর ধরে খেলছে। ওপেনিং নিয়ে অনেক কথা হয়। কারণ হয়তো ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আসছে না। তবে ওপেনিং পজিশনটা অনেক কঠিন, অনেক চ্যালেঞ্জ থাকে। কখনো দিনের শেষ ৫ ওভার বাকি থাকতে নামতে হয়, আবার কখনো ভেজা উইকেটে ব্যাটিং করতে হয়। তারা চ্যালেঞ্জটা কীভাবে ফেস করবে সেটার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ জায়গায় যদি আমরা উন্নতি করতে পারি এবং ধারাবাহিক হতে পারি, তাহলে টেস্ট দলটা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। মিডল অর্ডারকেও রান করতে হবে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র জয়টি ২০১৭ সালে মিরপুরে। চট্টগ্রামে ৭ উইকেটে হারের পর মিরপুরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতেছিল ২০ রানে। বাংলাদেশকে অবিশ্বাস্য জয় উপহার দিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ব্যাটিংয়ে ৮৪ ও ৫ রান করেছিলেন। বোলিংয়ে ৫টি করে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন টেস্টে। ২০০৬ সালে ফতুল্লায় জেতা টেস্ট হেরেছিল টাইগাররা অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সেঞ্চুরিতে।
