‘অস্বাভাবিক কাছাকাছি সময়ে’ আঘাত হেনেছে ভেনেজুয়েলার জোড়া ভূমিকম্প: বিশেষজ্ঞ
অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সময়ের ব্যবধানের দিক থেকে অস্বাভাবিক ছিল বলে জানিয়েছেন ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা। একই এলাকায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বড় কম্পন সৃষ্টি হওয়াকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখছেন তারা।
ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মার্ক অ্যালেন বৃহস্পতিবার সায়েন্স মিডিয়া সেন্টারকে বলেন, “ভূমিকম্প দুটির মাত্রা বিবেচনায় এগুলো এত অল্প সময়ের ব্যবধানে সংঘটিত হওয়া অস্বাভাবিক।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রথম ভূমিকম্পের ফলে সম্ভবত একটি ভূ-চ্যুতি রেখার অংশে ভাঙন সৃষ্টি হয়। এর পর ওই কম্পনের কারণে আশপাশের অন্য একটি অংশে চাপ স্থানান্তরিত হয়, যা পরবর্তী সময়ে ভেঙে গিয়ে দ্বিতীয় ভূমিকম্পের সৃষ্টি করতে পারে।
অধ্যাপক অ্যালেনের মতে, ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত এই ভূমিকম্পগুলো দক্ষিণ আমেরিকা ও ক্যারিবীয় টেকটোনিক প্লেটের সীমানা এলাকায় ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে দুটি ভূ-স্তর একে অপরের পাশ দিয়ে অনুভূমিকভাবে সরে যাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত সান আন্দ্রেয়াস ফল্টের সঙ্গে কিছুটা তুলনীয়।
তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে প্লেটগুলো পাশাপাশি সরে যাচ্ছে, অনেকটা ক্যালিফোর্নিয়ার সান আন্দ্রেয়াস ফল্টের মতো।”
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ভূমিকম্পের পর আরও আফটারশক বা পরাঘাতের ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায়। অ্যালেন বলেন, ভেনেজুয়েলার রাজধানী এমনিতেই ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত এবং বুধবারের ভূমিকম্পের কারণে স্থানীয় ভূ-চ্যুতি রেখাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের কম্পনের পর পরবর্তী কয়েক দিন বা সপ্তাহে ছোট ও মাঝারি মাত্রার আফটারশক স্বাভাবিক ঘটনা। তবে ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় এসব পরাঘাতের ঝুঁকি বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন তৈরি করে। সূত্র: সিএনএন
