আইফোনের কিস্তির জন্য কিশোরের জেদ, পাহাড়ের চূড়া থেকে স্বামী-সন্তানকে পড়তে দেখে মায়েরও ঝাঁপ
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের মহারাষ্ট্রে মুঠোফোনের কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ছেলেকে পাহাড়ের চূড়া থেকে ঝাঁপ দেওয়া থেকে রক্ষা করতে গিয়ে বাবা ও ছেলে নিচের খাদে পড়ে মারা যান। পরে স্বামী ও সন্তানকে খাদে পড়ে যেতে দেখে মাও পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর জেলার তিসগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ১৯ বছর বয়সী কুনাল, তার বাবা মুরলিধর চন্দগুড়ে ও মা সঙ্গীতা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কুনাল একটি দামি মুঠোফোন কিনেছিলেন। তবে সেটির কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে পরিবারের কাছে টাকা চাইছিলেন তিনি। সর্বশেষ কিস্তির টাকা দেওয়া নিয়ে বাবার সঙ্গে তার তীব্র বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিসগাঁও এলাকার একটি পাহাড়ে উঠে যান কুনাল।
ছেলের এমন অবস্থার খবর পেয়ে বাবা-মা সেখানে ছুটে যান। স্থানীয় লোকজনও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। কুনালকে পাহাড়ের কিনারা থেকে সরে আসতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বোঝানোর চেষ্টা করেন তারা।
স্থানীয় সাবেক সরপঞ্চ সঞ্জয় যাদবও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তাকে বলা হয়, মায়ের কথা ভেবে যেন এমন সিদ্ধান্ত না নেন। এমনকি তার জন্য নতুন মুঠোফোন কিনে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো কথাতেই রাজি হচ্ছিলেন না কুনাল।
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই সময় কুনাল বারবার দাবি করছিলেন, মৃত্যুই তার একমাত্র পথ। একপর্যায়ে তার বাবা মুরলিধর ছেলের কাছে গিয়ে তাকে টেনে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু ছেলেকে টেনে নামানোর সময় দুজনেই ভারসাম্য হারিয়ে পাহাড়ের নিচের খাদে পড়ে যান।
স্বামী ও সন্তানকে নিচে পড়ে যেতে দেখে কিছুক্ষণ পর সঙ্গীতাও পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন। এতে একই পরিবারের তিনজনেরই মৃত্যু হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কুনালকে পাহাড়ের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা তাকে বারবার ফিরে আসার অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু তাদের অনুরোধে সাড়া না দিয়ে তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।
পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র : এনডিটিভি
