আওয়ামী লীগ নেতাকে অপসারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ তুলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারকে অপসারণের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ‘সচেতন রাজশাহীবাসী’র ব্যানারে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজকদের অভিযোগ, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের ভাই সেডু সরকারের নেতৃত্বে একদল লোক এসে ব্যানার কেড়ে নিয়ে মানববন্ধন পণ্ড করে দেন।
মানববন্ধন প্রসঙ্গে ডাবলু সরকার বলেন, কে এসব করাচ্ছে আপনারা সবাই জানেন। রায়হান এখন আওয়ামী লীগ সেজেছে, সে কার লোক সেটাও সবাই জানে। দলীয় নেতাকর্মীদের বিভক্ত করে তিনি (ইঙ্গিতপূর্ণ) কি লাভ করতে চান, সেটা তিনিই ভাল জানেন। এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলে কোনো লাভ হবে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এ মানববন্ধন শুরু হয়। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে ছাত্রমৈত্রীর রাজশাহী মহানগর শাখার সাবেক সভাপতি আবু রায়হান মাসুদ (বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক) ছাড়াও সেখানে বক্তব্য দেন ছাত্রমৈত্রীর সাবেক নেতা বেলাল হোসেন, যুবমৈত্রীর নগরীর রাজপাড়া শাখার সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান ও কৃষক লীগের রাজপাড়া থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান। কামরুজ্জামানের বক্তব্য চলাকালে বেলা ১১টা ৫ মিনিটের দিকে কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে ব্যানার কেড়ে নেওয়া হয়। মানববন্ধন শুরুর ২৫ মিনিটের মাথায় হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সাবেক ছাত্রমৈত্রী নেতা আবু রায়হান মাসুদ বলেন, ডাবলু সরকারের অশ্লীল ভিডিও আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছে। তার নৈতিক স্খলন ঘটেছে। আমরা এটা মেনে নিতে পারিনি। আমরা এ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। বিএনপির লোকজন ফোন করে টিটকারি দিচ্ছে।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার তাকে নিয়ে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নগরীর বোয়ালিয়া থানায় তিনি মামলাটি করেন। এতে তিনি ভিডিওটিকে সম্পাদনা করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, একটি অনলাইন পোর্টালের ফেসবুক পেজে কে বা কারা তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করতে এডিট করে অশ্লীল ভিডিও তৈরি করেছে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়ার কথা ওই অনলাইন পত্রিকায় লেখা থাকলেও এখন পর্যন্ত ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে পাওয়া যায়নি। অজ্ঞাতনামা কে বা কারা নিজ স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকসহ অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন জানান, মানববন্ধনে তেমন কিছু হয়নি। থানা পুলিশ সেখানে মোতায়েন ছিল। সামান্য বাকবিতন্ডা শুরু হলে পুলিশ দুপক্ষকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
