আন্তর্জাতিক এনইএফ বৃত্তি পেল গাকৃবির ১২ শিক্ষার্থী

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) পরিবেশ ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত মোট ১২ জন শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নাগাও ন্যাচারাল এনভাইরনমেন্ট ফাউন্ডেশন (এনইএফ), জাপান কর্তৃক প্রদত্ত মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে নয়জন ছাত্রী ও তিনজন ছাত্র রয়েছে, যারা প্রত্যেকেই পরিবেশ সংরক্ষণে অনন্য দায়বদ্ধতা ও উৎকৃষ্ট শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য মনোনীত হন। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেন।

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বৃত্তির আওতায় প্রতি জন শিক্ষার্থী বার্ষিক ৩৮ হাজার টাকা হারে তিন বছর পর্যন্ত এ আর্থিক সুবিধা পাবেন। এর আগে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে গাকৃবির ২০ জন শিক্ষার্থী একই বৃত্তি লাভ করেছিলেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান সুনামের আরেকটি স্বীকৃতি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের স্বীকৃতি পাচ্ছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এই বৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করবে। বাংলাদেশকে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রমে যে ধারাবাহিক সহায়তা জাপানের এনইএফ দিয়ে আসছে, তা দুই দেশের বন্ধুত্ব ও বৈশ্বিক পরিবেশ চিন্তার এক অনন্য উদাহরণ।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনইএফ বাংলাদেশ কমিটির কো-অর্ডিনেটর ও গাকৃবির আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আমজাদ হোসেন।

উল্লেখ্য, নাগাও ন্যাচারাল এনভাইরনমেন্ট ফাউন্ডেশন (এনইএফ) জাপানের একটি মানবিক বেসরকারি সংস্থা। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তারা আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন, গবেষণা সহায়তা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে পরিবেশ সুরক্ষায় এগিয়ে নিতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights