আফগানিস্তানের বিরল খনিজে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের প্রস্তাব তালেবানের, বিনিময়ে যা দিতে হবে
অনলাইন ডেস্ক
আফগানিস্তানের বিপুল খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে তালেবান সরকার। একই সঙ্গে দেশটির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দ থাকা আফগান সম্পদ ছাড়েরও দাবি জানিয়েছে তারা।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বলেছেন, খনি, অবকাঠামো, কৃষি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকে আফগানিস্তান স্বাগত জানাবে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত ২০ বছরের যুদ্ধের দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের সম্পর্ককে না দেখে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ভিত্তিতে দেখা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা-সমর্থিত আফগান সরকারের ভূতাত্ত্বিক জরিপ অনুযায়ী, আফগানিস্তানে অন্তত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে তামা, লৌহ আকরিক, নিওবিয়াম, কোবাল্ট, সোনা ও লিথিয়ামের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে। তবে কয়েক দশকের সংঘাতের কারণে এসব সম্পদের বড় অংশ এখনো উত্তোলন করা হয়নি।
তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর চীন, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে খনি খাতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি করেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রকেও এই খাতে যুক্ত করতে চাইছে কাবুল।
তবে মার্কিন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তালেবানের ওপর থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বড় বাধা হতে পারে। বিদেশি কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, আফগানিস্তানে অর্থের প্রবাহ বাড়লে তা তালেবান সরকারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তালেবান আশা করছে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে থাকা আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ফেরত আনার পথ তৈরি হবে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, প্রায় ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ দেশের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে।
এদিকে, আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি আবার যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি কাবুলে পরিত্যক্ত মার্কিন দূতাবাস পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস
