আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠকের পর কী বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট?
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠকের পর অতীতের বিরোধ ভুলে একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মাঝে এই বৈঠককে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত শনিবার আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন পেজেশকিয়ান। রবিবার এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে যুদ্ধ এবং আমরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তারপর প্রথমবারের মতো আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে বৈঠক করলাম।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, বিদ্যমান সমস্যা ও উদ্বেগগুলো নিয়ে আমাদের মধ্যে বেশ ভালো আলোচনা হয়েছে। আমরা অতীতকে একপাশে সরিয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে এবং কীভাবে একসঙ্গে একটি ভবিষ্যৎ গড়া যায়—সে বিষয়ে একমত হয়েছি। পরবর্তীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আরাগচি ওই আলোচনা চালিয়ে নেন। এ বিষয়ে সেখানে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়েছে।
তেহরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং এর জেরে উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলার পর এটিই দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোয় গত মাসেই ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক লেনদেন স্থগিত করেছিল আমিরাত।
তবে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমিরাত বা এ অঞ্চলের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে ইরানের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে তাদের তীব্র আপত্তি রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাটি ব্যবহার করে শত্রুদের হামলার সুযোগ দেওয়া মোটেও উচিত নয়।
এদিকে, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে ইরান। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তারা আলোচনা করলে তাতে তার কোনো ‘পরোয়া নেই’।
