আশুগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শিক্ষকের বিদায়
লাল গালিচায় হেঁটে দীর্ঘদিনের প্রিয় শিক্ষাঙ্গন ছেড়ে আসলেন আশুগঞ্জ ফিরোজ মিয়া সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. এমদাদুল হক। এ সময় দু’পাশে দাঁড়িয়ে ফুল ছিটিয়ে দেন কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী। বাদ্যযন্ত্রে তখন বিদায়ের সুর। রোভার স্কাউট দলের এ আয়োজন ছাড়াও দিনভর কলেজে নানা আয়োজনে গুণী এই শিক্ষককে বিদায় জানানো হয়।
এমদাদুল হক তার ৩০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনেছেন বৃহস্পতিবার। প্রিয় শিক্ষকের অবসরজনিত ছুটির এই দিনে অশ্রুসজল ছিলেন সবাই।
এদিন সকাল ১১টায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাউসার পারভীন। বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় প্রধান শামসুল আলম আরিফ ও মোশাররফ হোসেন, প্রভাষক সানজিদা বেগম ও ফাতেমা বেগম। সঞ্চালনা করেন চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ফয়সাল মিয়া। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন প্রভাষক মাহমুদুল হাসান।
এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় কলেজের উদ্যোগে উত্তরা ভবনে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয় এমদাদুল হককে। বিভাগীয় প্রধান খন্দকার মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাউসার পারভীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সাফিউদ্দিন আহমেদ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান জিন্নাহ, সাবেক উপাধ্যক্ষ আহমদ উল্লাহ খন্দকার, সাবেক বিভাগীয় প্রধান শামসুল আলম শাহিন, সাবেক শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম মিলন। বক্তব্য রাখেন প্রভাষক আবু হানিফ, প্রভাষক রাশেদ মোশাররফ। সঞ্চালনায় ছিলেন প্রভাষক আশরাফুল আজিজ। কোরান তেলাওয়াত করেন প্রভাষক আবু নাঈম। গীতা পাঠ করেন প্রভাষক সমরেন্দ্র পাল।
বক্তারা বলেন, এমদাদুল হক ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক। কলেজের শিক্ষার সুনাম ছড়িয়ে দেওয়ার অগ্রণী নায়ক। শিক্ষার্থীদের তার নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে চলার আহ্বান জানানো হয়।
এমদাদুল হক ফিরোজ মিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শিক্ষকতায় নিয়োজিত হন। সুনামের সাথে দীর্ঘ শিক্ষা জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি বিভাগীয় প্রধান ছাড়াও শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত উপাধ্যক্ষের চলতি দায়িত্ব পালন করেন।
