আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের বন্দিদশা
সাইদ মেমন, বরিশাল
ফ্যাসিস্ট সরকার উন্নয়নের নামে দেশব্যাপী করেছিল আশ্রয়ণ প্রকল্প। যেগুলো তিন বছরের মধ্যে অনেকটাই পরিত্যক্ত। তার মধ্যেও যে কটি আছে সেগুলোতে সমস্যার শেষ নেই। এর মধ্যে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দোয়ারিকা এলাকার ৮০ পরিবারের একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প। আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকলেও এখানকার অধিবাসীরা কাটাচ্ছেন অনেকটা বন্দিজীবন। এখানে যাতায়াতের জন্য নেই কোনো স্থায়ী সড়ক। জোয়ার এলেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের চারপাশ পানিতে ডুবে যায়। তখন পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে, কখনো অন্যের জমি ও বাড়ির ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয় বাসিন্দাদের। বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য প্রায় চার বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল ২০০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঠের সেতু। নির্মাণের দুই বছরের মধ্যেই তা ভেঙে পড়ে। এরপর কেটে গেছে আরও দুই বছরের বেশি। এখনো তৈরি হয়নি বিকল্প স্থায়ী যাতায়াতব্যবস্থা। ফলে বর্ষা ও জোয়ারের সময় দুর্ভোগ চরমে ওঠে।
সরেজমিন দেখা যায়, সুগন্ধা নদীর তীরে পাশাপাশি দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে রয়েছে ৮০টি ঘর। এসব ঘরে বসবাসকারী পরিবারগুলোর বের হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সড়ক নেই। একটি ইটভাটার ভিতর দিয়ে বের হওয়ার পথ থাকলেও গেট বন্ধ থাকায় সেটাও ব্যবহার করতে পারেন না বাসিন্দারা। ফলে অনেকটা পথ পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়।
অন্যদিকে, ছোট একটি খাল পার হয়ে স্থানীয় কয়েকটি বাড়ির ভিতর দিয়ে মূল সড়কে আসার সুযোগ রয়েছে। তবে জোয়ারের পানি বাড়লে খাল ও আশপাশের নিচু এলাকা ডুবে যাওয়ায় এ পথেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। আশ্রয়ণের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একসময় মোগো জমি-জায়গা, ঘরবাড়ি সবই আছিল। নদীভাঙনে হেইসব হারাইছি। চাইর বছর আগে সুগন্ধা নদীর পারে দ্বারিকা আশ্রয়ণে দুই শতক জাগা আর একখান ঘর পাইছি। কিন্তু চলাচলের কোনো রাস্তা নাই। জোয়ার আইলেই চারপাশ পানিতে ডুইবা যায়।’
তিনি বলেন, ‘চার বছর আগে যাতায়াতের লাইগ্যা একখান কাঠের পুল বানাইয়া দিছিল। কিন্তু দুই বছরের মধ্যেই হেইডা ভাইঙা গেছে। হেইর পর থেইকা প্রায় দুই বছর ধইরা মোগো খুব কষ্ট কইরা চলাফেরা করতে হয়। পানির মইধ্যে দিয়া, মানুষের জমির ওপর দিয়া চলাফেরা করি। জোয়ার আইলে কষ্ট আরও বাড়ে।’ আশ্রয়ণের বাসিন্দারা জানান, এখানে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন তাদের খালের পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে এ দুর্ভোগ আরও বাড়ে। বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের এখান থেকে বের হওয়ার জায়গা নেই। একটা কাঠের পুল ছিল, তাও নষ্ট। স্কুলে যেতে হলে মূল সড়কে আসতে আগে পানির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় জামা-কাপড় হাতে নিয়ে যেতে হয়। আমরা সরকারের কাছে একটি রাস্তার জন্য আবেদন করছি। জানা গেছে, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় ২০২১ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলার দ্বারিকা এলাকায় ৮০টি পরিবারকে দুই শতাংশ করে জমি ও ঘর দেওয়া হয়। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এসব ঘর সুগন্ধা নদীর তীরে দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে স্থাপন করা হয়েছে।
