ইংল্যান্ড যাবে কত দূর

মনোয়ার হক

আর মাত্র চার জয়। তাহলেই ৬০ বছরের ব্যর্থতা থেকে বের হয়ে আসবে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে নিজ দেশেই বিশ্বকাপ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। এরপর শিরোপা তো দূরের কথা ফাইনালই খেলতে পারেননি ইংলিশরা। সর্বোচ্চ প্রাপ্তি বলতে দুবার সেমিফাইনাল খেলা। এবার কি সেই লজ্জা থেকে বের হতে পারবে হ্যারি কেইনের নেতৃত্ব দেওয়া দলটি? রাউন্ড থার্টি-টু নকআউট পর্ব পার হয়েছে একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সামনে তাদের শেষ ষোলোর ম্যাচ। এখানে জয় পেলে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল তারপওে ফাইনাল। কঙ্গোকে হারানোর পরই ফুটবলপ্রেমীরা ইংল্যান্ডকে ঘিরে আশাবাদী হয়ে উঠছেন। প্রশ্ন হচ্ছে সামনে টানা চার ম্যাচে জয় পেয়ে ইংল্যান্ড দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে কি? কোচ টমাস টুখেল বড় বড় বাধা পেরোতে কি ছক আঁকছেন?

ফুটবলে অসম্ভব বলে কোনো শব্দ নেই। তা না হলে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি শীর্ষ ৩২ থেকে বিদায় নেয়? নেদারল্যান্ডসেরও মিশন শেষ হয়ে যাবে কেন? কেপ ভার্দের মতো অজানা ও অপরিচিত দেশ আবার দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়েকে রুখে দেয় কীভাবে। সে ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড যদি সামনে চার ম্যাচ জিতে ৬০ বছর পর হারানো ট্রফি উদ্ধার করে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে কি? এটাও ঠিক ইংল্যান্ডের প্রতিটি ধাপ পেরোনো বড্ড কঠিন। শেষ ষোলতে হ্যারি কেইনরা খেলবেন বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিপক্ষে। যারা ফ্রান্সের মতো দুর্দান্ত খেলে টপ সিক্সটিনে জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বকাপে দেশটি দুবার কোয়ার্টার ফাইনাল ছাড়া একাধিকবার নকআউট পর্বে খেলেছে। এবার তো আরও দুরন্ত। মেক্সিকোকে হারাতে পারলে তখন আবার ইংল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে হবে ব্রাজিল বা নরওয়ের সঙ্গে। এখানে জিতলে সেমিফাইনালে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি আর্জেন্টিনার সঙ্গে। তা না হলে ব্রাজিল বা নরওয়ে। অর্থাৎ ধাপে ধাপে শক্ত বাধা। পারবে কি এদের হারিয়ে ফাইনালে উঠতে?

পথ কঠিন হলেও ইংল্যান্ড পারবেই না তা বলা যায় না। ইংলিশদের আবার মনোবল শক্ত। তারা সহজে হার মানতে চায় না। ইংল্যান্ডদের স্বস্তি হচ্ছে তারা এবার মাথা নত না করার মতো খেলছে। মূল তারকা অধিনায়ক হ্যারি কেইন সেরা ফর্মে। এখন পর্যন্ত পাঁচ গোল করে প্রমাণও মিলেছে। জুড বেলিংহাম, বুকায়োসাকা, সার্কাস রাশফোর্ড, এন্থনি গর্ডনও আস্থার পরিচয় দিচ্ছেন। রক্ষণভাগও চমৎকার। সব মিলিয়ে ব্যালেন্সড এক দল ইংল্যান্ড। বিশ্বজুড়ে ফুটবলারদের যে খ্যাতি এর পেছনে বড় অবদান ইংল্যান্ডেরই। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ যে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে তা থেকেই ফুটবল ঘিরে এত আলোচনা। অথচ সেই দেশই ৬০ বছর ধরে বিশ্বকাপে শিরোপাহীন। এবার সেই হারানো পথটা হ্যারি কেইনের আলোয় জেগে আছে। কত দূর যাবে সেটাই এখন প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights