ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ইসলাম

হাফেজ মাওলানা আল আমিন সরকার

শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইনসাফ বা ন্যায়বিচার। ইসলাম যে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, ইনসাফ তার অন্যতম। কারণ ন্যায়বিচার ছাড়া কোনো সমাজে প্রকৃত শান্তি, মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। ইনসাফের অর্থ হলো ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে পক্ষপাতহীন আচরণ করা এবং প্রত্যেককে তার প্রাপ্য অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া। ইসলাম শুধু ইবাদত নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার ও সদাচরণের নির্দেশ দেন।’ (সুরা আন-নাহল : আয়াত-৯০)। ইসলামে ন্যায়বিচারের এমন শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ, পারিবারিক সম্পর্ক, আত্মীয়তা কিংবা দলীয় পরিচয় কোনো কিছুই ন্যায়বিচারের পথে বাধা হতে পারে না। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়বিচারে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের, পিতা-মাতা কিংবা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে যায়।’ (সুরা আন-নিসা : আয়াত-১৩৫)। এ আয়াত থেকে আমরা শিক্ষা পাই, নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে গেলেও সত্য গোপন করা যাবে না। আপনজন অন্যায় করলেও তাকে সমর্থন করা যাবে না। অথচ আমাদের সমাজে অনেক সময় অপরাধের বিচার হয় না অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে; বরং অপরাধী কোন পক্ষের, কার আত্মীয় কিংবা কার অনুসারী, তা বিবেচনা করা হয়। আপনজনের অন্যায় আড়াল করা হয়, আবার প্রতিপক্ষের সামান্য ভুলকেও বড় করে দেখা হয়। এ ধরনের মানসিকতা সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।

মহান আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদের ন্যায়বিচার থেকে বিরত না রাখে। তোমরা ন্যায়বিচার কর। এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।’ (সুরা আল-মায়িদা : আয়াত-৮)। এ আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম সবার জন্য সমান ন্যায়বিচারের শিক্ষা দিয়েছে।

♦ লেখক : পরিচালক, চরপাথালিয়া সালমান ফারসী (রা.) মাদ্রাসা, গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights