ইফতারে সাদা দই বিক্রির শীর্ষে

বগুড়ায় ইফতারে সাদা দই রয়েছে বিক্রির শীর্ষে। দইয়ের পরের স্থানেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শরবত ও হালিম। ঐতিহ্য হিসেবে দইয়ের প্রচলন বগুড়ায় দীর্ঘকাল থেকে। সারাদিন রোজা পালনের পর সাদা দই দিয়ে তৈরিকৃত ঘোল শরীরে শীতল আমেজ দিয়ে যায়। সাদা দইয়ের ঘোল হলো রোজাদারদের তৃপ্তির পরশ। রোজার দিনগুলোতে ইফতার সামগ্রীর সাথে সাদা দইয়ের চাহিদা বেড়ে যায় প্রায় ৩ গুণ। যে কারণে প্রতি বছর রমজান এলেই ইফতারে সাদা দই বিক্রির শীর্ষে থাকে। সাদা দইয়ের পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে মাঠাসহ অন্যান্য ইফতার সামগ্রী।

জানা যায়, বগুড়া শহরের স্টেশন রোডে, সাতমাথা, কাঁঠালতলা, চেলোপাড়া, নবাববাড়ি রোড, কলোনী, রাজাবাজার এলাকা, ফতেহ আলী বাজার মোড়সহ বিভিন্নস্থানে ইফতার সামগ্রী বিক্রির জন্য দোকান বসানো হয়েছে। সাধারণ মানের হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে উচ্চমানের হোটেলগুলোতেও ইফতার সামগ্রী বিক্রি শুরু হয় দুপুর থেকে। রমজানের প্রথম রোজায় ইফতার কিনতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। যার যার পছন্দ অনুযায়ী পরিবারের জন্য ইফতার সামগ্রী কিনছেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। ইফতার সামগ্রী বিভিন্ন হোটেলে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। বরাবরের মতো এবারো বগুড়ায় ইফতারিতে প্রধান আকর্ষণ ছিল সাদা দই। সাদা দই ইফতারে কয়েকভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাদা দইয়ের সাথে ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করে ঘোল হিসেবে, শুধু দই প্লেটে করে পরিবেশন, দইয়ের সাথে চিরা, দই মিষ্টি, দইয়ের সাথে খই ও মুড়ি, দই চিকেন রোস্ট, দই আর খাসির গোস্ত দিয়ে কোরমা তৈরিসহ বিভিন্নভাবেই খাবার তৈরি করা হয়।

বগুড়া জেলায় দই থেকে আরও বেশ কিছু খাবার তৈরি হয়ে থাকে। রমজানের রোজা ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে এই খাবারগুলো তৈরি হয়ে থাকে। তবে রোজাকে সামনে রেখে খাবারগুলোর চাহিদা একটু বেড়ে যায়। শরীরকে শীতল রাখে বলে সাদা দইয়ের চাহিদা বেড়ে দ্বিগুণ হয়। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর দইয়ের দাম অনেকটা বেশি। আকার অনুযায়ী ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন মানের ও নামের সাদা দই বিক্রি হচ্ছে।
বগুড়া শহরের সাতমাথায় অবস্থিত শেরপুর দই ঘরের দই বিক্রেতা জুয়েল হাসান জানান, পবিত্র রমজানকে ঘিরে প্রতি বছর সাদা দইয়ের চাহিদ থাকে প্রচুর। এবারো চাহিদা ভালো। তবে আগের চেয়ে দাম একুট বেশি। এখানে ৩৫০ গ্রাম ওজনের সাদা দই বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা ও ৭০০ গ্রাম ওজনের দই বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। স্পেশাল দই ২২০ টাকা ও শাহী ২৬০ দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ১ কেজি ওজনের ঘোল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ৬০ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম ৩০ টাকায়।

এদিকে ইফতার সামগ্রীর মধ্যে বিক্রি হচ্ছে ঝুড়ি, চিড়া, বাদাম, ডাল ভাজা, নিমক পাড়া, বুন্দিয়া, শাহী জিলাপি, রেশমী জিলাপি, বেগুনি, ডাল পিঁয়াজি, সবজি পিঁয়াজি, চিকেন গ্রীল, চিকেন তান্দুরী, চিকেন গার্লিক, চিকেন শাশলিক, চিকেন চিলি, চিকেন ললিপপ, চিকেন রোল, চিকেন ফ্রাই, চিকেন ক্যান্ডিরোল, চিকেন ব্রেড পাকুড়া, চিকেন ড্রামাস্টিক, চিকেন কাটলেট, চিকেন চপ, চিকেন বল, চিকেন আচারি, বিফ রোল, পিফ ব্রেড পাকুড়া, মিল্ক ব্রেড পাকুড়া, বিফ কাটলেট, বিফ চপ, বিফবল, পাটিশাপটা পিঠা, শামী কাবাব, টিকা কাবাব, জালি কাবাব, সবজি পাকুড়া, সবজিরোল, ডিম চপ, আলু চপসহ আরও সুস্বাদু খাবার। তবে গত বছরের তুলনায় এবছর দাম বেড়ে প্রতি কেজি বুন্দিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি, ভুনা বুট ২০০ টাকা, ঝুড়ি ভাজা ২২০ টাকা, চুটকি ২২০ টাকা, পিঁয়াজি ২২০ টাকা, বেগুনি ২২০ টাকা, তিলের বড় জিলাপি ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়াও খাসি বা গরুর হালিম বগুড়ার ইফতার সামগ্রীতে দিনদিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবাটি হালিম বিক্রি হয়ে থাকে ১৫০ টাকা করে। তবে ইদানিং লক্ষণীয় যে, জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইফতার সামগ্রীতে মাংস থেকে তৈরি খাদ্য সামগ্রীর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। জেলা শহরের জলেশ্বরীতলা, বিভিন্ন তারকা হোটেল, মোটেল, সাতমাথা, উপশহর, চকযাদু রোড এলাকায় এখন উল্লেখযোগ্যহারে বিক্রি হয় চিকেন গ্রীল, চিকেনে দিয়ে তৈরি রোল, রোস্ট, খাসির পায়া, খাসির রান রোস্ট, গরুর কিমা কাবাব, খাসি ও গরুর কাবাব, গরুর চাপ ইত্যাদি। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ শত টাকার মধ্যে এই মাংস দিয়ে তৈরি খাবারগুলো বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। বগুড়ায় ইফতার সামগ্রীতে ফলের ব্যবহারও বেড়েছে আগের থেকে কয়েকগুণ বেশি। তবে দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের সাধ্যের বাইরে বিভিন্ন ধরনের ফল।

ইফতার কিনতে আসা আমিনুর রহমান জানান, গত বছরের চেয়ে এবছর ইফতার সামগ্রীর মূল্য বেড়েছে কেজিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে। গত রোজার মাসে বুন্দিয়া বিক্রি করা হয়েছে ১৮০ টাকা কেজি। আর এবার বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি। রোজার আগে প্রতিটি জিনিসের দাম বেড়ে দিগুণ হয়ে যায়। সংসারের অন্যান্য খরচের পাশাপাশি আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে বেশি দামে ইফতার কেনার সাধ্য নেই।

বগুড়া শ্যামলী হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের জেনারেল ম্যানেজার জামিল খান জানান, প্রতি বছরের তুলনায় এবছর অন্যান্য জিনিসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ইফতার সামগ্রী বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights