ইরাকের হয়ে বিশ্বকাপ খেলছে ‘পাকিস্তান’

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে নামা যেকোনো ফুটবলারের জন্যই এক পরম পাওয়া। মঙ্গলবার ইরাকের হয়ে যখন একজন তরুণ মিডফিল্ডার মাঠে পা রাখবেন, তখন ইতিহাস লেখা হবে অন্য আরেকটি দেশে। ২৪ কোটি মানুষের দেশ পাকিস্তান, জনসংখ্যার দিক থেকে যা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম। অথচ ফুটবল বিশ্বকাপে খেলা তো দূরের কথা, দেশটির ইতিহাসে বাছাইপর্বে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড মাত্র একটি। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের তলানির দিকে থাকা এই দক্ষিণ এশীয় দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা কখনোই বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের কাউকে নিয়ে উন্মাদনা করার সুযোগ পায়নি। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছে জিদান ইকবালের হাত ধরে।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এফসি উট্রেখটের এই মিডফিল্ডার এবার ইরাকের হয়ে বিশ্বকাপে খেলবেন। আর এর মাধ্যমেই প্রথম পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে পুরুষ বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ২৩ বছর বয়সী এই তারকা। নিজের এই অনন্য কীর্তির কথা আগে জানা ছিল না জিদানের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি দেখে বাবাকে জানানোর পর দুজনেই বেশ অবাক হয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে জন্ম ও বেড়ে ওঠা জিদানের মা ইরাকি এবং বাবা পাকিস্তানি। নিজের এই মিশ্র ঐতিহ্য নিয়ে ভীষণ গর্বিত তিনি। এর প্রমাণ মেলে তার বুটেও, যার বাম পাশে থাকে ইরাকের পতাকা আর ডান পাশে পাকিস্তানের। নিজের শেকড়কে শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ বুট পরে মাঠে নামেন তিনি।

জিদান ইকবালের ক্যারিয়ারে অবশ্য এটিই প্রথম কোনো বড় অর্জন নয়। এর আগে প্রথম ব্রিটিশ দক্ষিণ এশীয় ফুটবলার হিসেবে দীর্ঘ দুই দশক পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। নিজের এই যাত্রা দিয়ে আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে চান এই তরুণ। তিনি মনে করেন, দক্ষিণ এশীয় কিংবা যেকোনো অঞ্চলের ও ধর্মের শিশুরাই যেন তাকে দেখে বিশ্বাস করতে পারে যে, কঠোর পরিশ্রম আর একাগ্রতা থাকলে যেকোনো পটভূমি থেকেই ফুটবলের শীর্ষ স্তরে পৌঁছানো সম্ভব।

পাকিস্তানি ফুটবল ভক্তদের মাঝেও জিদান ইকবালকে নিয়ে উন্মাদনার শেষ নেই। দেশটির ফুটবল বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কারও এমন উপস্থিতি স্থানীয় ও প্রবাসী সব পাকিস্তানি তরুণের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। অনেকেই মনে করছেন, এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ফুটবলপ্রেমীরা কেবল জিদানকে ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং পুরো ইরাক দলকেই মনপ্রাণ দিয়ে সমর্থন করবে।

দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষা শেষে এক অত্যন্ত কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে এবারের বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে ইরাক। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর এবারও কাকতালীয়ভাবে মেক্সিকোর মাটিতেই ফিরছে তারা। গ্রুপ পর্বে তাদের লড়তে হবে ফ্রান্স, আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে এবং সেনেগালের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে। তবে আন্ডারডগ হিসেবে টুর্নামেন্টে নামলেও কোনো রকম চাপ নিতে রাজি নন জিদান। তার মতে, হারলে হারানোর কিছু নেই কিন্তু যদি তারা একটি ম্যাচও জিততে পারেন, তবে পুরো বিশ্বকে চমকে দিতে পারবেন।

সূত্র: বিবিবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights