ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে আবারও হামলার হুমকি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
চার থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু দেখতে দেখতে সেই সংঘাত গড়িয়েছে ছয় মাসে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে জর্ডানে ইরানের মিসাইল নিক্ষেপের পর পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে এটি যে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’—সে কথা সরাসরি স্বীকার করতে নারাজ ট্রাম্প; উল্টো ইরানকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ আখ্যা দিয়ে আবারও আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ম্যানুয়েল রাপালো জানান, রবিবার হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার মধ্য দিয়ে নতুন এই উত্তেজনার শুরু হয়। জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। তবে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী মাঝপথেই ইরানের আটটি মিসাইল ধ্বংস করে দেয়।

এ ঘটনার পর ওভাল অফিস থেকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা কোনো পূর্ণাঙ্গ বা সর্বাত্মক যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে যান। সরাসরি উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এখন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। তাদের নিজস্ব কোনো মুদ্রা নেই, শীর্ষ নেতারা প্রায় সবাই নিহত এবং সামরিক বাহিনীও ধ্বংস হয়ে গেছে। চরম আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, ‘কী হয় দেখার জন্য আমরা ওদের একটু মেরে দেখব না; এর মানে এই নয়।

দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এই সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘তুলনামূলক ছোট যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। তার দাবি, আমেরিকা ইরানে বেশ ভালো কাজ করছে এবং হরমুজ প্রণালির অবস্থাও এখন ‘অত্যন্ত ভালো’। সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় প্রতি রাতে গড়ে অন্তত ৩০টি জাহাজ নিরাপদে চলাচল করছে।

এদিকে সামনে মার্কিন ও ইসরায়েলি নির্বাচন। এর পর কি ইরানের ওপর থেকে চাপ কমতে পারে? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ইরান বিষয়ক কার্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জোই হুড এমন সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, তেহরানকে নিয়মিত এই মার্কিন চাপ মোকাবিলার জন্যই প্রস্তুত থাকতে হবে। আল জাজিরাকে জোই হুড বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় প্রশাসনই ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে। একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি ছাড়া, কেবল নির্বাচন বা নতুন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাত ধরে এই নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে—তেহরানের এমনটা ভাবা মোটেও ঠিক হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights