ইরানের কাছে কেন ক্ষতিপূরণ চাইছেন ট্রাম্প? যুদ্ধবিরতির আলোচনায় নতুন শর্ত

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান নিয়ে আলোচনার মধ্যে নতুন দাবি তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে তেহরানের সঙ্গে যে কোনো শান্তি চুক্তিতে মার্কিন নাগরিকদের নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। ট্রাম্পের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের দাবি, পাঁচ মাসের সামরিক সংঘাতে ইরান যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তার জন্য তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। একই যুক্তিতে কয়েক দশকে ইরানের হামলায় নিহত ও আহত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ওয়াশিংটনও ক্ষতিপূরণ চাইবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প ২০০০ সালে ইউএসএস কোল যুদ্ধজাহাজে হামলার প্রসঙ্গ টানেন। গত ৫০ বছরে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার মতো কয়েকটি ঘটনায় ইরান সমর্থন দিয়েছে বা জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে ‘যেকোনো ও সব ধরনের আলোচনায়’ ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন।

ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক অবস্থানেও একদিকে যেমন সামরিক পদক্ষেপের হুমকি রয়েছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথাও বলা হচ্ছে। গত রোববার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখন কিছুটা নরম। এতে সামরিক হামলার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তবে আলোচনার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক চলাচল এখনও কার্যত বন্ধ রয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার এবং তেলশিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এই অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। এর মধ্যে ট্রাম্পের ক্ষতিপূরণের নতুন দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার পথ আরও কঠিন করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তির শর্ত নিয়েও দুই দেশের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights