ইরানের পরিবর্তে বিশ্বকাপে খেলা ইতালির কাছে লজ্জাজনক

অনলাইন ডেস্ক

২০১৪ সালের পর টানা তিনবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি ইতালি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই তিনবারই বাছাইপর্বের প্লে অফে এসে পা হড়কেছে। এরই মধ্যে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। এশিয়ার দলটির পরিবর্তে ইতালিকে খেলানো নিয়ে চলছে আলাপ-আলোচনা। তবে ইতালির কাছে এ ধরনের প্রস্তাব লজ্জাজনক।

ইরানকে সরিয়ে ইতালিকে খেলাতে ফিফাকে সম্প্রতি এক প্রস্তাব দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বিশেষ দূত। তবে এ ধরনের প্রস্তাবে রাজি নয় ইতালি। ইতালির অলিম্পিক কমিটির সভাপতি লুচিয়ানো বুয়োনফিগ্লি বলেছেন, ‘আমার কাছে এটা (ইরানের পরিবর্তে খেলা) হবে অপমানজনক। যোগ্যতা অর্জন করেই বিশ্বকাপে খেলতে হবে।’ ইতালির অর্থমন্ত্রী জিয়ানকার্লো জর্জেত্তি এই প্রস্তাবকে লজ্জাজনক বলেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূতের কথার প্রেক্ষিতে দেখা দেয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলির এক মন্তব্যে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাম্পোলি বলেছেন, ‘ট্রাম্প ও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে বিশ্বকাপে খেলানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’ বার্তা সংস্থা এপিকে জাম্পোলি বলেন, ‘এটা ছিল আমার স্বপ্ন। ইতালীয় এবং ইতালীয়–আমেরিকানদের কথা ভেবেই আমার এই অনুরোধ।’

জাম্পোলির বক্তব্যের পর ইতালির ক্রীড়াঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি স্কাই নিউজকে বলেন, ‘২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালির খেলার প্রশ্নই ওঠে না। প্রথমত, এটা অসম্ভব। দ্বিতীয়ত এটা উপযুক্তও না। মাঠের খেলায় যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।’ আর ইরানের ফুটবলাররা বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবেন কি না এই প্রশ্ন গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্পকে করা হয়েছিল। মজার সুরে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে বেশি কিছু চিন্তা করিনি।’

এবারই প্রথমবারের মতো হচ্ছে ৪৮ দলের ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে ৩৯ দিনের ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। সূচি অনুযায়ী বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিসরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ খেলার কথা ইরানের। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের মধ্যে ইরানের দুই ম্যাচের ভেন্যু লস অ্যাঞ্জলেসে এবং একটি হবে সিয়াটলে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। যদিও ফিফা প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো আশাবাদী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই বিশ্বকাপ খেলবে ইরান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights