ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল বহর কতোটা শক্তিশালী?
অনলাইন ডেস্ক
ওমানের মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার টেবিলে বসেও নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কোনোভাবেই আলোচনার বিষয়বস্তু করতে রাজি নয় ইরান। তেহরান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এই সমরাস্ত্র ভাণ্ডার তাদের নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ এবং এটি কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং ২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইরান এখন তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে আগের চেয়েও বেশি সংহত করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমানে ইরানের হাতে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুদ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার বা তার থেকেও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে পুরো ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি এই মিসাইলের আওতায় রয়েরছে।
বিশেষ করে অতি সম্প্রতি প্রদর্শিত খোররামশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটির ম্যাক গতিবেগ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার প্রযুক্তি নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া সেজিল, ইমাদ এবং শাহাব-৩ এর মতো উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানকে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।
২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কার্যকারিতা ব্যাপকভাবে সামনে আসে। যদিও ইসরায়েল দাবি করেছিল, তারা ইরানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে দেশটির কেন্দ্র ও উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধনে সক্ষম হয়েছে। সেই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তেহরান এখন প্রতি মাসে কয়েকশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’তে এসব মারণাস্ত্র সংরক্ষণ করায় সেগুলো বিমান হামলার হাত থেকে সুরক্ষিত থাকছে।
বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন ওমান আলোচনায় ইরানকে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধসহ পাঁচটি কঠিন শর্ত দিয়েছে। তবে সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোই ইরানের একমাত্র কার্যকরী রক্ষাকবচ যা দেশটিকে সরাসরি বিদেশি আক্রমণ থেকে রক্ষা করছে। ফলে তেহরান এই সক্ষমতা ত্যাগ করলে তা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে। ইরানের কর্মকর্তারাও বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে চাপ দেওয়া হলে আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
