ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি না হলে কী করবে যুক্তরাষ্ট্র? এল কঠোর বার্তা
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে কোনো পারমাণবিক চুক্তি নাও হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কূটনৈতিক সমঝোতা না হলে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংসের পথে এগোতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
রবিবার মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ক্রিস রাইট। ‘এবিসি দিস উইক’ অনুষ্ঠানে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশটির ওই সক্ষমতা ‘হয়তো ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে’।
রাইটের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, কূটনৈতিক সমঝোতা সম্ভব না হলে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে সামরিক হামলার পথ বেছে নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তা করার অভিযোগে দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরিচালিত হচ্ছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছে তেহরান।
অনুষ্ঠানের সহ-উপস্থাপক মার্থা র্যাডাটজ রাইটকে প্রশ্ন করেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখবে কি না। জবাবে তিনি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নেন।
রাইট বলেন, ইরানের আর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নেই। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে বলেও দাবি করেন। ইরান যদি সেসব অস্ত্র তৈরি করে, শেষ পর্যন্ত সেগুলো ব্যবহারের সক্ষমতাও কমিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
তবে সাবেক এই তেল কর্মকর্তা বলেন, ইরানে নতুন নেতৃত্ব এলে দেশটির সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। রাইটের দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত তদারক করে। তিনি বলেন, ইরানের পরবর্তী প্রশাসনের সময় হয়তো একটি চুক্তি হতে পারে। ভবিষ্যতে কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মকর্তার বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা ক্রমেই কমছে এবং কূটনৈতিক সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
এর আগে গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের হামলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ ছিল। পরে আবারও হামলা শুরু হয়। এর মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রও নৌ অবরোধ শুরু করে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাহিনীর মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি হামলা হলেও প্রকাশ্যে সংঘাতের মাত্রা কম দেখানোর চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস।
গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধকে খাটো করে একে ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সংঘাত পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন। দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো এমনটা হয়ে যায়।’
এই সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের আরেক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, তিনি এই সংঘাতকে ‘যুদ্ধ বলবেন না’ এবং ‘এই মুহূর্তে সক্রিয় কোনো গোলাগুলি চলছে না’।
এ অবস্থায় রোববার রাইট বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র তার ‘কাজ শেষ করবে’ এবং যুদ্ধের অবসানে অন্য দেশগুলোও তাদের সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশও এই প্রচেষ্টায় যোগ দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
