ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

‘প্রয়োজন’ পড়লে ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা তৃতীয় দিনে গড়ানোর পর সোমবার ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’ পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে আমার কোনও জড়তা নেই। অন্য সব প্রেসিডেন্টদের মতো আমি অন্তত বলি না যে ‘স্থলভাগে কোনও সৈন্য মোতায়েন করা হবে না।’ আমি তা বলছি না।’’

তিনি বলেন, আমি বলছি, ‘সম্ভবত তাদের প্রয়োজন নেই’ অথবা যদি তাদের প্রয়োজন হয় তাহলে পাঠানো হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার সকালে পেন্টাগনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ইরানে বর্তমানে কোনও আমেরিকান সেনা নেই। যদিও তিনিও সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেনানি।

হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটিই নিশ্চিত করছেন, আমাদের শত্রুরা বুঝুক যে, আমেরিকার স্বার্থকে এগিয়ে নিতে আমরা যতদূর প্রয়োজন ততদূর যাব। তবে আমরা এ বিষয়ে মূক নই। ২ লাখ মানুষকে সেখানে পাঠাতে হবে না এবং ২০ বছরও থাকতে হবে না।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেইলি মেইলে রোববার বলেন, তার হিসাবমতে, ইরানে যুদ্ধ চার সপ্তাহ মতো চলবে। তবে সোমবার তিনি নিউ ইয়র্ক পোস্ট পত্রিকায় ইঙ্গিত দেন যে, সময় আরও কমানো হতে পারে। তিনি বলেন, এ অভিযান খুব দ্রুতই সম্পন্ন করা হবে।

ইরান অভিযানে নিহতের সংখ্যা সংশোধন করে ট্রাম্প বলেন, এ পর্যন্ত ইরানের ৪৯ জন নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি সোমবারের সাক্ষাৎকারে আরও জানান যে, ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার জেনিভায় সর্বশেষ আলোচনার পর।

কারণ, ইরান গোপনে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি স্থানে পারমাণবিক কর্মসুচি শুরু করেছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, “আমরা গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেছিলাম। তারা (ইরান) সেখানে ছিল। তারপর তারা পিছু হটল। তারা সবসময়ই পিছু হটবে।

“এভাবে কখনওই চুক্তি করা যায় না। কারণ, শেষ পর্যন্ত চুক্তি হওয়ার পরও তারা পিছু হটবে। এটাই তারা সাধারণত করে। কিন্তু তারা সেই জায়গাটায় যেতে পারেনি। তারা পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চেয়েছিল। সুতরাং আমরা তাদেরকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছি।”

গত শনিবার থেকে ইরানে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পাল্টা জবাবে ইরান ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights