ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির উপায় কি?
অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এক দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ হোসেন মুসোভিয়ান। তার মতে, সামরিক উপায়ে কোনো পক্ষেরই চূড়ান্ত জয় সম্ভব নয় বরং কেবল টেকসই কূটনীতির মাধ্যমেই এই সংঘাত থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব। গত জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকটি ইতিবাচক আলোচনার পথ উন্মোচন করলেও তা বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই ফের শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত সব কূটনৈতিক সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। ইরানি বন্দরের ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপ এবং খার্গ দ্বীপ দখলের ইঙ্গিতের মতো পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে ব্যারেল প্রতি ৮৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর জবাবে ইরানও সামরিক শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। তারা নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় ১০ লাখ যোদ্ধা প্রস্তুত করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। একই সঙ্গে হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরে প্রভাব বিস্তার করে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে তেহরান।
তবে এই ধ্বংসাত্মক সংঘাত এড়িয়ে সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মুসোভিয়ান। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সূত্র ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে, চিরন্তন কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল নয়। ভ্যান্সের মতে, বহিরাগত রাজনৈতিক চাপ এবং আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার অপচেষ্টা এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত কেবল নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া। এই সংকট সমাধানের জন্য মূলত দুটি বিষয়ে সমঝোতা জরুরি; প্রথমত, ইরান ও ওমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়ত, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) আওতায় একটি স্থায়ী দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করা, যা মার্কিন কংগ্রেস ও ইরানি পার্লামেন্ট উভয় স্থান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হবে।
চূড়ান্ত বিশ্লেষণে মুসোভিয়ান মনে করেন, কোনো যুদ্ধেই ওয়াশিংটন বা তেহরান একে অপরকে পুরোপুরি নতি স্বীকার করাতে পারবে না। দুই দেশের সাধারণ মানুষের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে সমাধান খোঁজা দরকার, যেখানে জরিপ অনুযায়ী অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই এই যুদ্ধের বিপক্ষে এবং ইরানি জনগণও কোনো ধরনের আত্মসমর্পণ কিংবা বিচ্ছন্নতা ছাড়াই নিরাপত্তা চায়। ফলে চিরস্থায়ী সংঘাতের ধ্বংসলীলা এড়িয়ে সরাসরি ও টেকসই আলোচনার টেবিলে ফেরাই এখন উভয় রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে যৌক্তিক পথ।
সূত্র: মিডলইস্ট আই
