ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে আমেরিকার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র: রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের বিরুদ্ধে গত পাঁচ মাস ধরে যুদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এতেই দেশটির দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ আশঙ্কাজনকহারে কমেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এমন অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের কাছে থাকা দূরপাল্লার ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম’ (এটিএসিএমএস) এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ (পিআরএসএম)-এর মতো অত্যাধুনিক প্রায় সব নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে।

পাইলটযুক্ত যুদ্ধবিমান সরাসরি ইরানি আকাশসীমায় না পাঠিয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে হামলা চালাতেই ওয়াশিংটন মূলত এসব অত্যন্ত ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের বরাদ্দকৃত নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র শেষ করে এখন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে মজুদ থাকা মার্কিন অস্ত্রাগার থেকে সরবরাহ এনে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। ফলে রাশিয়া বা চীনের মতো অন্যান্য পরাশক্তির সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো বড় সংঘাত তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তীব্র দুশ্চিন্তা প্রকাশ করা হচ্ছে।

কেবল অ্যাটাক ক্ষেপণাস্ত্রই নয় ইরানের অব্যাহত হামলা ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের টান পড়েছে। গবেষণা সংস্থা সিএসআইএসের তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্তত ৩৮ শতাংশ ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়ে গেছে। এ ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ মিসাইলের বৈশ্বিক মজুদেরও প্রায় অর্ধেক খালি হয়ে গেছে। ইরানের কৌশলটি মূলত মার্কিন প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বকে একটি বিশাল সরবরাহগত ও আর্থিক বোঝায় পরিণত করেছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার কথা অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে আমেরিকার কাছে চাহিদার চেয়েও বেশি অস্ত্র রয়েছে। এসব উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে দীর্ঘ সময় ও জটিল প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়, ফলে যুদ্ধে যে হারে অস্ত্র খরচ হচ্ছে, অস্ত্র কারখানাগুলো তার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এবং অস্ত্রাগারের দ্রুত শূন্য হয়ে যাওয়া ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কৌশলগত সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights