সন্তান হারানোর শোক, মা ডলফিনের যে ভিডিও দেখে কাঁদছে নেটদুনিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সন্তান হারানোর যন্ত্রণা কতটা গভীর ও হৃদয়বিদারক হতে পারে, তা আরও একবার বিশ্ববাসীকে স্বচক্ষে দেখিয়ে দিল ভারত মহাসাগরের এক মা ডলফিন। নিজের মৃত ছানাকে সাগরের জলে ভাসিয়ে টানা ছয় দিন ধরে পিঠে বয়ে নিয়ে চলেছে ‘ফ্রেগল’ নামের একটি ডলফিন। সন্তান হারিয়ে কিছুতেই তাকে হাতছাড়া করতে রাজি নয় এই মা। অবুঝ প্রাণীর এই গভীর মাতৃত্ব ও শোকাতুর মুহূর্তের একটি স্পর্শকাতর ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা ‘জিওগ্রাফ মেরিন রিসার্চ’-এর গবেষকরা ড্রোন ক্যামেরার সাহায্যে করুণ এই দৃশ্যটি রেকর্ড করেন বলে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গবেষকরা জানান, মাত্র দুই সপ্তাহ বয়সে ফ্রেগলের এই শাবকটি মারা যায়। তবে এটিই ফ্রেগলের প্রথম সন্তান হারানোর ঘটনা নয়; গবেষকদের তথ্যানুযায়ী, এর আগেও অন্তত চারটি সন্তানকে হারিয়ে চরম হৃদয়দাহ সহ্য করতে হয়েছে এই ভাগ্যহত মা ডলফিনকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে দেখা যায়, সাগরের বুকে কেবল ফ্রেগল একাই এই করুণ যাত্রা করছে না, বরং তার এই কঠিন শোকের মুহূর্তে দলবদ্ধ অন্য ডলফিনগুলোও তার খুব কাছাকাছি সাঁতার কাটছে। যেন সঙ্গীর এই অপরিসীম দুঃখে তারাও সহমর্মী হয়ে পাশে থেকে পাহারা দিয়ে চলেছে। বিজ্ঞানী ও গবেষকরা জানান, ডলফিন ও তিমি জাতীয় প্রাণীদের মধ্যে এমন আচরণ পূর্বেও দেখা গেছে, যেখানে সন্তান মারা যাওয়ার পর মা ডলফিন টানা কয়েক দিন ধরে মরদেহ সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়—যা তাদের গভীর শোক প্রকাশ ও মাতৃত্ববোধেরই স্পষ্ট প্রমাণ।

ইন্টারনেটে ড্রোন ফুটেজটি মুহূর্তেই ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং সাধারণ নেটিজেন থেকে শুরু করে প্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে এক আবেগঘন আবহ তৈরি করে। ভিডিওটি দেখে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘এই দৃশ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পশুপাখিদেরও অনুভূতি আছে এবং তারা মৃত্যুর অনুভূতি উপলব্ধি করতে পারে।’ অন্য এক মন্তব্যকারী ডলফিন দলের একতাকে তুলে ধরে লেখেন, ‘ডলফিনের পুরো দলটি কিন্তু তাকে একা ফেলে যায়নি। তারা নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে তাকে নিজস্ব সময় দিয়েছে, আবার ঠিকই তার সঙ্গে সাঁতরে চলেছে। ডলফিন সত্যিই এক চমৎকার ও বুদ্ধিমান প্রাণী।’

অন্য এক নেটিজেন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, ‘দৃশ্যটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এটা আমাদের জোরালোভাবে মনে করিয়ে দেয় যে শোক বা কষ্ট পাওয়ার অনুভূতি কেবল মানুষের একচ্ছত্র অধিকার নয়।’ আরেকজন ডলফিনের প্রতি মানুষের অবিচারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আক্ষেপ করে লেখেন, ‘এই অবলা প্রাণীদের সঙ্গে আমরা এমন আচরণ করি যেন তাদের কোনো অনুভূতি, আবেগ, কষ্ট বা আনন্দ কিছুই নেই। আমরা কেবল তাদের শোষণ করি, অত্যাচার করি, হত্যা করি এবং তাদের নিরাপদ বাসস্থানকে দূষিত করি। মৃত্যুর আগপর্যন্ত আমি চেষ্টা করব প্রাণীদের কোনো ক্ষতি না করতে, কারণ আমাদের করা অন্যায়গুলো তাদের প্রাপ্য নয়।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights