ইরান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

হরমুজ প্রণালীসহ পার্শ্ববর্তী কৌশলগত সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও উত্তেজনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটা সত্ত্বেও যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি নিয়ে ইতিবাচক আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বুলহেড সিটির বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’র সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে মার্কিন বাহিনী।

এছাড়া, ধারাবাহিক মার্কিন সামরিক অভিযানের মুখে ইরান তার মূল সামরিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছে বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

তিনি উল্লেখ করেন, ইরান ইতোমধ্যে তাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা এবং সার্বিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হারিয়ে কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিখুঁত ও ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে ইরান আর কোনো কার্যকর সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে না বলে তিনি দাবি করেন।

ইরানি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর মার্কিন হামলার প্রভাব বর্ণনা করতে গিয়ে বেশ অনানুষ্ঠানিক ও কড়া ভাষায় কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি ইরানের নেতৃত্বের ধারাবাহিক পতন তুলে ধরে বলেন, তাদের প্রথম সারির নেতারা সবাই শেষ। এরপর তারা দ্বিতীয় সারির নেতৃত্ব সামনে নিয়ে এসেছিল, তারাও আর নেই। পরবর্তীতে তারা তৃতীয় সারির নেতৃত্ব নির্বাচন করে, যার অর্ধেকই ইতোমধ্যে নির্মূল হয়ে গেছে। অবশিষ্ট যারা রয়েছে, তারা আমার কাছে অনুরোধ ও প্রতিশ্রুতি চেয়েছিল যেন তাদের ওপর আর কোনো আক্রমণ না করা হয়। আমি তাদের সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং নতুন করে তাদের ওপর আঘাত না হানতে সম্মত হয়েছি।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথে আক্রমণের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিয়ে মার্কিন জনগণের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জনসভায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করেন ট্রাম্প। তবে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতি যতটা খারাপ হতে পারত, ততটা খারাপ হয়নি।

ট্রাম্প বলেন, আমি জানতাম যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে। তবে সত্যি বলতে কি, আমি ভেবেছিলাম জ্বালানি তেলের দাম আরও অনেক বেশি বাড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, যুদ্ধ থামার সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং তেলের দামও খুব দ্রুত আগের পর্যায়ে নেমে আসবে।

এদিকে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের আশাবাদ সত্ত্বেও জাহাজে হামলা বৃদ্ধি এবং ইরানের সাথে আলোচনার অনিশ্চয়তা সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। তবে যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি ট্রাম্প।

তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights