ঈদের লম্বা ছুটি শুরু চলছে ঘরে ফেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুরু হয়েছে ঈদের টানা সাত দিনের ছুটি। এবার ঘরে ফেরার পালা। ছুটির আগে গতকাল সরকারি চাকরিজীবীদের ছিল শেষ কর্মদিবস। অফিস শেষে অনেকেই যাত্রা করেন বাড়ির পথে। ছুটি শুরু হয়ে যাওয়ায় স্বজনদের সান্নিধ্য পেতে সবার তাড়া ঘরে ফেরা নিয়ে। গতকাল বিকাল থেকে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে মানুষের ভিড় বেড়েছে।

২৮ মে ঈদুল আজহা ধরে আগে থেকেই ছয় দিনের ছুটি নির্ধারণ করে রেখেছিল সরকার। তবে ঈদের আগে আরও এক দিন ছুটি বাড়িয়ে এর পরিবর্তে একটি সাপ্তাহিক ছুটির দিন অফিস খোলা রেখেছিল সরকার। সম্প্রতি এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। তবে এর আগে ২৩ মে (শনিবার) ও ২৪ মে (রবিবার) অফিস খোলা রাখে। আগামী বৃহস্পতিবার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের দিন সাধারণ ছুটি। ঈদুল আজহার আগে ২৬ ও ২৭ মে দুই দিন এবং পরে ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত তিন দিনসহ মোট পাঁচ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি। টানা সাত দিন ছুটি শেষে আগামী সোমবার (১ জুন) অফিস আদালত খুলবে। ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে গতকাল সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকটা তাড়াহুড়ো করেই বের হন। দুপুরের পর থেকেই অফিসপাড়া খালি হতে থাকে। গতকাল শেষ কর্মদিবসে ব্যাংকগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শেষ সময়ে অনেকেই নগদ অর্থ ওঠাতে ভিড় করেন ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায়। অনেকে নতুন টাকার জন্যও ভিড় জমান। অনেক ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনেও লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় গ্রাহকদের। গতকাল সকাল থেকে সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে দেখা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর থেকেই অনেকটা ফাঁকা হতে থাকে। কেউ কেউ অফিসে হাজিরা দিয়ে ছুটেন বাড়ির পথে। অনেককেই ঈদের আগে সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা বিনিময় করতেও দেখা যায়। সচিবালয়ে গাড়ি রাখার স্থানগুলোতে গাড়ি ছিল অন্য দিনের চেয়ে কম। গতকাল সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের চাপ দেখা গেছে। ঘাটজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও ব্যাগেজ তল্লাশিতেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী। ঈদযাত্রায় নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারে। এ চাপ সামাল দিতে প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে। নিয়মিত সার্ভিসের পাশাপাশি অতিরিক্ত লঞ্চও চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে রাজধানীর মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন পয়েন্টে এরই মধ্যে ভিড় বেড়েছে। তবে তীব্র রোদ এবং গরমে অস্বস্তি প্রকাশ করছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে টিকিট কাউন্টারের সামনে রোদে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। টার্মিনালটিতে যাত্রীদের কয়েক গুণ চাপ বেড়েছে। মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ রুটে বাস যাত্রী পরিবহন করে। এসব রুটে যাতায়াতের আগাম টিকিট কিনতে হয় না। নিজ নিজ গন্তব্যের বাস কাউন্টারের সামনে গিয়ে নির্দিষ্ট মূল্যে টিকিট কাটতে দেখা যায়। এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ছুটির মধ্যেও জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীরা এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights