এক ধাপে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল দাবি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের

অনলাইন ডেস্ক
এক ধাপে এবং গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন। আসন্ন জাতীয় বাজেটে ৯ম পে-স্কেল এক ধাপে বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ না রাখা হলে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সংগঠন একযোগে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মৌন মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়। ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মো. সেলিম মিয়া সংবাদ সম্মেলনে দাবিগুলো তুলে ধরেন।

সেলিম মিয়া বলেন, বর্তমান বেতন কাঠামোয় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মচারীরা। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্মচারীদের সমস্যার বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দ্রুত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

নির্বাচিত সরকার চার মাস ধরে দেশ পরিচালনা করলেও এখনো ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়ে কোনো দাবি নিয়ে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না।

কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিন ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রচার হয়েছে। এ খবরে দেশের সরকারি কর্মচারীরা হতাশ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন পে-স্কেল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও গত ১১ বছরে কর্মচারীরা দুটি পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সেখানে তিন ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই জুন ২০২৬-এর মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি করে এক ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে জানুয়ারি ২০২৬ থেকে পে-স্কেল কার্যকর করতে হবে এবং বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখতে হবে।

ফেডারেশনের চেয়ারম্যান বলেন, প্রথম গ্রেড ও ২০তম গ্রেডের মধ্যে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য দূর করতে গ্রেড সংখ্যা কমাতে হবে। অষ্টম পে-স্কেলে বাতিল হওয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল করতে হবে। চাকরিতে কর্মরত থাকা পর্যন্ত কর্মচারীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট চালু রাখতে হবে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আসন্ন বাজেটে ৯ম পে-স্কেল এক ধাপে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না রাখা হলে এবং এ বিষয়ে কোনো রোডম্যাপ ঘোষণা না করা হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সংগঠনকে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের মহাসচিব মো. জামাল উদ্দিন, মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী, প্রধান উপদেষ্টা মহিউদ্দিন খন্দকার, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এম এ হান্নান ও মহাসচিব বেল্লাল হোসেন, কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খায়ের আহম্মেদ মজুমদার, মাহামুদুল হাসান, খায়রুন নাহার লিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতির সভাপতি ছারোয়ার মোর্শেদ এবং আহ্বায়ক মো. মোশারফ হোসেনসহ অন্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights