এবার নোয়াখালীতে সেই শিশুর চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে খতনায় ভুলে অতিরিক্ত রক্তপাতে অসুস্থ শিশু আল নাহিয়ান তাজবীবের (৭) চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা প্রবাসী আলমগীর হোসেন ওরফে বাদল ।

তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে জেলা (সিভিল সার্জন) স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের ব্যাপক আশ্বাস দিয়ে তাজবীবকে উন্নত চিকিৎসা দিতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে নিয়ে আসেন। এখানে বর্তমানে আমার ছেলে আশানুরূপ চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। শুক্রবার সকাল থেকে জ্বরে ছেলের শরীর পুড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ডাক্তার একবারের জন্যও তাকে দেখতে আসেনি। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে আজ শুক্রবার তাই ডাক্তার আসবে না।
তবে অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, আজ বিকেল বেলা হাসপাতালে ডাক্তার সাইফুদ্দিন ওই শিশুকে দেখতে গিয়েছে। তবে শিশুটির জ্বর আছে বলে তিনি স্বীকার করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে শুক্রবার ছাড়া অন্য দিনেও ডাক্তার তেমন থাকেন না। ইন্টার্নি ডাক্তার দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলে চিকিৎসা সেবা। ময়লা আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে রোগীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে এমন অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিজয় কুমার দে’কে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। একই সাথে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সৌরভ ভৌমিকের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা.মো: যোবায়েরকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশু আল নাহিয়ান তাজবীব উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আলমগীর হোসেন বাদলের ছেলে। সে বসুরহাট পৌরসভা এলাকার চাইল্ড কেয়ার স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।

উল্লেখ্য, বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ছেলেকে খতনা করাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছেলে নিয়ে যান তার বাবা। একপর্যায়ে তিনি চিকিৎসকের খোঁজ করলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নৈশ প্রহরীসহ তিনজন চিকিৎসক শিশুটিকে তার বাবার কাছ থেকে জরুরি বিভাগে নিয়ে নিজেরাই খতনা করাতে থাকেন। এ সময় তিনি আবারও চিকৎসকের খোঁজ করলে তারা নিজেদেরকে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ দাবি করে ছেলের বাবাকে আশ্বস্ত করে সেখান থেকে বের করে দেন। এক পর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন শিশুর অতিরিক্ত রক্তপাতে সব ভিজে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights