ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ প্রতীকী বয়কট জামায়াতের
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্র সংস্কার ইস্যুতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আয়োজিত সংলাপ বয়কট করেছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের মুলতবি অধিবেশনে দলটির নেতারা যোগ দেননি। তবে আজ তারা সংলাপে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। গতকাল বেলা ১১টায় রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ঈদের ছুটির পর দ্বিতীয় ধাপের সংলাপ শুরু হয়। সংলাপে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংলাপে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও জামায়াতের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি। কমিশনের পক্ষ থেকে দুই ঘণ্টা পরে হলেও তাদের যোগ দিতে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা যোগ দেননি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন সংগঠনের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। ঈদের আগের (৩ জুন) বৈঠকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও রফিকুল ইসলাম খান। এ বিষয়ে সংলাপে প্রতিনিধিত্বকারী ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের সময়সীমা ঠিক করায়, সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে মনে করে জামায়াত। এর প্রতিবাদে জামায়াত সংলাপে যায়নি। সরকার অবস্থান পরিষ্কার করলে জামায়াত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতীকী বয়কট করেছে। আমরা দুপুরের পরে হলেও সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলাম। আশা করছি বুধবার থেকে তারা আবারও অংশ নেবেন। ‘বয়কটের’ কারণ লন্ডনে ইউনূস-তারেক বৈঠক কি না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আপনারা বুঝে নেন।’ গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, সংলাপে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়নি। এ নিয়ে সংলাপে জানানো হয়েছে যে, তারা প্রতীকী বয়কট করেছে। আমরাও মনে করি একটি-দুটি দলকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত দিয়ে দিলেন, এটা কেন? নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে বলবেন কোন দল কত বড়। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। বুধবার তারা সংলাপে যোগ দেবেন বলে আশা করি।
