কঠিন সময়ের কথা ভাবছিলেন ইব্রাহিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়সূচক গোল করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন মিডফিল্ডার ইব্রাহিম। গোলের পর চোখে পানি চলে আসার কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকা এবং অনেক সময় দলে থেকেও খেলতে না পারার কঠিন অভিজ্ঞতার কথা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে জয়ের পর গতকাল অনুশীলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ইব্রাহিম বলেন, ‘আমি টিমে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলাম। মাঝেমধ্যে টিমে থাকলেও খেলতে পারতাম না। আসলে গোল করার পরে ওই খারাপ মোমেন্টগুলো বেশি মনে পড়ছিল।’

ম্যাচে বাংলাদেশের আক্রমণভাগ বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি। প্রথমে বেঞ্চে থাকা ইব্রাহিমের মনে হয়েছিল, মাঠে থাকলে হয়তো সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গোল করার জন্য কিছু মোমেন্ট দরকার হয়। ওগুলো আগে থেকেই রিড করতে হয়। আমি যখন বুঝতে পারছিলাম, বক্সে বল যাচ্ছে কিন্তু ফিনিশ হচ্ছে না, তখন আমার টার্গেট ছিল আমি যদি ওইখানে থাকি, যে কোনো মোমেন্টে একটা-দুটা বল পাব। আর সেটা ভালোভাবে ফিনিশ করতে পারলে, আল্লাহর রহমতে গোল করতে পারব।’

আসন্ন ম্যাচগুলোতেও গোল কিংবা গোল করানোর মাধ্যমে দলের জয়ে অবদান রাখতে চান ইব্রাহিম। প্রতিপক্ষ ভারত হোক কিংবা মালদ্বীপ, কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী খেলতে চান তিনি। ‘ফরোয়ার্ড লাইনের প্লেয়ার হিসেবে সব সময় চাইব টিমকে জেতানোর জন্য অবদান রাখতে। সুযোগ পেলে লক্ষ্য একই থাকবে-গোল করা অথবা গোল করানো।’

ভুটানের বিপক্ষে গোলটি করেছেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে মাঠে নেমে। তবে গোলের মুহূর্তে বক্সে ঢুকে পড়ার পেছনে ছিল কোচের নির্দেশনা। ইব্রাহিম জানান, ‘কোচ আমাকে বলেছিলেন, ডিপ বক্সের আশপাশে থাকতে, যাতে বল পেলে শট নিতে পারি। সামিত যখন বলের দিকে যায়, দেখি ওর পেছনে স্পেস আছে। আমি ওই বলেই রান করি।’

আগের ম্যাচের ভুলত্রুটি নিয়ে এখনো ভিডিও বিশ্লেষণ হয়নি বলে জানান ইব্রাহিম। ‘ভিডিও অ্যানালাইসিসের পর বুঝতে পারব আমাদের ভুলগুলো কোথায় ছিল। সেগুলো নিয়ে পরবর্তী ম্যাচে কাজ করব,’ বলেন তিনি।

জাতীয় দলে হামজা চৌধুরীর যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে ইব্রাহিম বলেন, ‘হামজা ভাই এলে অবশ্যই আমাদের টিমের মোমেন্টাম চেঞ্জ হয়ে যাবে।’ আসিয়ান কাপে দলে জায়গা না পাওয়ার আক্ষেপও রয়েছে তাঁর। তবে তা কোচের সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নিয়ে ক্লাবে ভালো খেলার চেষ্টা করেছেন। ‘বাদ পড়ায় অবশ্যই খারাপ লেগছে। তার পরও চেষ্টা করেছি, যেহেতু সামনে সাফ ছিল। ক্লাবে ভালো করতে পারলে অবশ্যই টিমে সুযোগ পাব। আর সুযোগ পেলে সদ্ব্যবহার করব।’ স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে প্রস্তুত কি না, এমন প্রশ্নে ইব্রাহিমের উত্তর, ‘অবশ্যই। ফরোয়ার্ড লাইনে সুযোগ পেলে আমি সব সময় রেডি, যে কোনো পজিশনে খেলার জন্য।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights