কথা কম বললে মুক্তি মিলে

মো. আবু তালহা তারীফ

কথা বলতে পারা মহান আল্লাহর নিয়ামত। কথা বলতে না পারায় মাকে মা বলে ডাকতে পারে না। নিজ সন্তানের নাম ধরে, নিজ স্ত্রীর সঙ্গে মন খুলে ও আত্মীয়-প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে না বাকপ্রতিবন্ধী ভাইবোনরা। আল্লাহ তাদের ভালো রাখুক এবং যারা কথা বলতে পারি তারা শুকরিয়া আদায় করি, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা কত কথাই না বলি, রাতে ঘুমানোর আগে একটু হিসাব মিলিয়ে নেওয়া জরুরি ভালো ও মন্দের। কথা বলার নেয়ামত পেয়ে নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী যখন তখন যেখানে সেখানে কথার মাধ্যমে শক্তি প্রয়োগ করা উচিত নয়। ভালোমন্দ সব কথাই লিপিবদ্ধ করা হয়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে, তা লিপিবদ্ধ করার কাজে সচেতন পাহারাদার ফেরেশতা তার কাছে রয়েছে।’ সুরা কাফ, আয়াত : ১৮।

বেশি কথা বললেই মানুষে ভালো বলে এমনটা কিন্তু নয়। প্রয়োজনের বেশি কথা বললে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনি লক্ষ করুন, অধিকাংশ সমস্যার সৃষ্টি অতিরিক্ত কথা বলার কারণেই। মিথ্যা, গিবত, চোগলখোরি, অশ্লীলতা প্রকাশ ও অহংকারী মনোভাব এবং ঝগড়াবিবাদ সৃষ্টির মূল কারণ অতিরিক্ত কথা বলা। সুনানে তিরমিজি শরিফে উল্লেখ রয়েছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসুল! আপনি আমার ক্ষেত্রে যা কিছুর আশঙ্কা করেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কাজনক কোনটি? তখন রাসুলুল্লাহ তার নিজের জিহবাটি ধরে বললেন- এটা সবচেয়ে আশঙ্কাজনক।

কথা বলতে পারলেই জয়ী হওয়া যায় না। প্রথমেই অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। অতঃপর জেনেশুনে সত্যতা যাচাই করে সতর্কতা অবলম্বন করে নম্র ভাষায় বুদ্ধি খাটিয়ে কথা বলতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমার প্রতিটি কথাই লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। সর্বদা মিথ্যা পরিহার করে সত্য বলতে হবে। বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থেকে শত্রুকে বন্ধুতে পরিণত হওয়ার মতো কথা বলা জরুরি। কথা বললে ভালো কথা বলা উচিত, অন্যথায় চুপ থাকাই উত্তম। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষদিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে; নচেৎ চুপ থাকে।’ বুখারি শরিফ। কথা কম বলা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কথা কম বলা ব্যক্তির শত্রুও কম। সর্বদা কথার সঙ্গে কাজেরও মিল রাখা চাই। সুযোগ পেলেই অনর্থক ও খেয়ালখুশিমতো কথা বলা পরিহার করতে পারলেই দুনিয়াবি ধ্বংস ও জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights