কনকনে শীতে বিপর্যস্ত দিনাজপুরের মানুষ

দিনাজপুর প্রতিনিধি
পৌষের শেষে হিমেল হাওয়ায় দিনাজপুরে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। বিকালের পর থেকে শুরু হয় হিমেল বাতাস, সন্ধ্যা থেকে পড়তে থাকে ঘন কুয়াশা। সকালে ও রাতে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে দিনাজপুর। আর হিমেল হাওয়ায় কনকনে শীতে কাঁপছে খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ।

রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে অঞ্চল। সড়ক-মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করেছে। অনেকে সন্ধ্যা কিংবা সকালে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছেন। কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন। উষ্ণতার আশায় কেউবা আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করে নিচ্ছেন, আবার কেউ ভিড় জমাচ্ছেন চায়ের দোকানে। দিনের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ও নিম্নআয়ের মানুষ।

এদিকে, ঠাণ্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের হার বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষরা বেশি পরিমাণে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাপমাত্রার ছন্দপতনে শিশুদের জ্বর, সর্দি, কাশি ও নিউমোনিয়ার মতো বিভিন্ন রোগ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে।
বুধবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ মাসে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়।

অটোচালক ফারুক জানায়, ঘন কুয়াশা আর ঠাণ্ডা বাতাসে মানুষ ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছে না। সকাল ৮টা পার হয়েও ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। আগে দিনে ৭০০-৮০০ টাকা আয় হতো। এখন ৪০০-৫০০ টাকা আয় হয় না।

শহরের ষষ্টিতলা মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়া রফিকুল ইসলাম ফুলাল বলেন, কয়েক দিন থেকে ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে শীত বেশি হওয়ায় সকাল ও সন্ধ্যায় রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে যায়। রাতে আগুন জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছি।

দিনমজুর আব্দুর রহিম জানান, দুইদিন থেকে সকালে ঠাণ্ডা বাতাসে বাড়ি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। কাজে যেতে পারছি না। আবার কাজেও কেউ ডাকে না।

জেলা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বুধবার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ ভাগ। চলতি সপ্তাহে জেলায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। এ ছাড়া জানুয়ারি মাসে এই জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights