করোনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষণ্ণতা-উদ্বিগ্নতা বাড়াচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

বৈশ্বিক মহামারি করোনা যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মুদ্রাস্ফীতি ইত্যাদি পুরো বিশ্বে অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে তৈরি করেছে ঘাটতি। আয়-ব্যয়ের বৈষম্য মানুষের মধ্যে দুশ্চিন্তা, হতাশা, নিদ্রাহীনতা তৈরি করেছে। এ সব কারণে বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা, মাদকাসক্তি ইত্যাদি সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ (সিআইএমসি) হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মানসিক স্বাস্থ্য সার্বজনীন মানবাধিকার’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিআইএমসি হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এএসএম রিদওয়ান। সিআইএমসি’র অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. টিপু সুলতানের সভাপতিত্বে ও মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেহেরুন্নিছা খানমের সঞ্চলনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ডা. শাহ আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিআইএমসিএইচ এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. আমির হোসেন, চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আলী হোসাইন প্রমুখ।
সেমিনারের পর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে একটি র‌্যালি কলেজ প্রাঙ্গন প্রদক্ষিণ করে জরুরি বিভাগের সামনে এসে শেষ হয়। র‌্যালির পর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে ফ্রি হেলথ চেকআপের উদ্বোধন করা হয়।

মূল প্রবন্ধে ডা. এএসএম রিদওয়ান বলেন, রোগের অনুপস্থিতিই সুস্বাস্থ্য নয়, সুস্বাস্থ্য পেতে হলে শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে ভাল থাকতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য ভাল থাকলে আরও ভালভাবে কাজ করা যায়, সমস্যা সমাধান ও এগিয়ে যাওয়া যায়। দক্ষতার ঘাটতি বা দক্ষতার অপব্যবহার, কাজের অতিরিক্ত চাপ বা কম জনশক্তি, দীর্ঘ, অপরিবর্তনশীল বা অসামাজিক কর্মঘণ্টা, সহকর্মীদের থেকে কম সহযোগিতা পাওয়া, বৈষম্য, শারীরিক নিগ্রহ বা সহকর্মীদের দ্বারা কটাক্ষের শিকার, পদোন্নতি না পাওয়া বা চাকুরির অনিশ্চয়তা।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন সবুজ, সিআইএমসিতে ২০১৯ সালে মনোরোগবিদ্যা বিভাগ স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর এ বিভাগ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ৪১০০ রোগী এ বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। বিভাগের উদ্যোগে মানসিক স্বাস্থ্য দিবস পালন, স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ পালন, নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে মানসিক রোগের অঞ্চলভিত্তিক কারণ ও তার প্রতিকারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights