কর্মীদের হানি ট্র্যাপ ও গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়ে সতর্ক করল ওপেনএআই
প্রেমের ফাঁদ, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব কিংবা দামি উপহার—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গোপন তথ্য চুরি করতে এমনই সব চটকদার কৌশল কাজে লাগাচ্ছে বিদেশি গুপ্তচররা। তথাকথিত এই ‘হানি ট্র্যাপ’ বা প্রলোভন থেকে বাঁচতে কর্মীদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি গোয়েন্দারা একেবারে সাধারণ সামাজিক আলাপের আড়ালে বা বারবার রোমান্টিক প্রস্তাব দিয়ে কোম্পানির সংবেদনশীল তথ্য বের করে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতি এড়াতে কর্মীদের বেশ কিছু প্রটোকল মেনে চলতে বলেছে ওপেনএআই। এর মধ্যে রয়েছে—পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ল্যাপটপ বা ফোনের স্ক্রিন আড়াল করে রাখা, জনসমাগমস্থলে কেউ আড়িপাতছে কি না খেয়াল রাখা এবং মিটিং শেষে হোয়াইটবোর্ড মুছে ফেলা। গুগল এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও একই সতর্কতা পেয়েছেন।
এই উদ্বেগের পেছনে বাস্তব কারণও রয়েছে। সম্প্রতি আব্দুল রহমান আলফোজান নামে ওপেনএআইয়ের এক সাবেক কর্মীর বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সান ফ্রান্সিসকোতে ওপেনএআইয়ের এক কনফারেন্স রুমে টিভির পেছনে অডিও রেকর্ডার লুকিয়ে রেখেছিলেন।
বর্তমানে উন্নত এআই প্রযুক্তির কৌশলগত ও বাণিজ্যিক মূল্য আকাশছোঁয়া। ধারণা করা হচ্ছে, ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের বাজারমূল্য শিগগিরই ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাবে। তাই নিজেদের প্রযুক্তি ও গোপন তথ্য সুরক্ষিত রাখাই এখন এসব প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
