কলেজে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলন, ফুলবাড়ীতে প্রভাষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিভাগের প্রভাষক নাজমুন নাহার সেতুর বিরুদ্ধে নিয়মিত কলেজে উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের করা লিখিত অভিযোগের পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রভাষক নাজমুন নাহার সেতুর বাড়ি রংপুর শহরে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কলেজে নিয়মিত উপস্থিত না থেকে মাসে এক-দুই দিন এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। এতে পাঠদান ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, নিয়মিত কলেজে উপস্থিত না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী তাকে ঠিকমতো চেনেন না। এমনকি স্থানীয়দের অনেকেই জানেন না যে তিনি ওই কলেজে কর্মরত। তার বিভাগের শিক্ষার্থী সংকট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, নাজমুন নাহার সেতু ২০১৬ সালে কলেজটিতে যোগদান করেন এবং ২০১৯ সালে এমপিওভুক্ত হন। তার ইনডেক্স নম্বর ৩০৯৮৭৬৪।
অভিযোগ রয়েছে, কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক বজায় রেখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কলেজে অনিয়মিতভাবে উপস্থিত হচ্ছেন। এমনকি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এ সম্পর্ক বজায় রাখারও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথিপত্র বা প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
অভিযোগের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম ওয়াদুদ বলেন, “নাজমুন নাহার সেতুর বিরুদ্ধে অভিযোগটি কিছুটা সত্য। তবে আমাদের কলেজে এরকম আরও অনেক প্রভাষক আছেন, যারা নিয়মিত কলেজে আসেন না। আপনারা তদন্ত করে যা সত্য, তা নিউজ করবেন। এ বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।”
কলেজের উপাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, “প্রভাষক নাজমুন নাহার সেতু দীর্ঘদিন ধরেই কলেজে নিয়মিত আসেন না—এটা ঠিক। তবে এ বিষয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলাই ভালো হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নাজমুন নাহার সেতুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে কলেজে উপস্থিত হয়েও তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার স্বামী পরিচয়ে এক ব্যক্তি ফোনে প্রতিবেদককে বলেন, “আপনার নিউজ করার দরকার, আপনি নিউজ করেন। এ বিষয়ে সেতু ম্যাডামের সঙ্গে যোগাযোগ করার দরকার নেই।”
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আক্তার বলেন, “ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিভাগের প্রভাষক নাজমুন নাহার সেতু নিয়মিত কলেজে না আসার বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্তের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কলেজের উন্নয়ন ও সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights