কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা নেই, হতাশ জেলেরা

হাসানুর রশীদ, কক্সবাজার

৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের দেখা মিলছে না। বঙ্গোপসাগরে ইলিশের এই সংকটের কারণে চরম হতাশ কক্সবাজারের জেলে, ট্রলার মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়তদার, পাইকার ও সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আশীষ কুমার বৈদ্য জানান, ১২ জুন থেকে ২৩ জুন ১২ দিনে কক্সবাজারের ঘাটে ২২৫.৮০ টন মাছ এসেছে। যেখানে ইলিশ ছিল ১০.৩৯ টন।

গত ১৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত জেলেদের সাগরে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তাদের আশা ছিল ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মাছ ধরা পড়বে। কিন্তু পর্যাপ্ত ইলিশসহ অন্যান্য মাছের দেখা না পেয়ে মৎস্য সংশ্লিষ্টরা হতাশ।

সরেজমিন বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও স্থানীয় মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা ভালো মাছ পাওয়ার আশায় সাগরে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাদের প্রত্যাশা ছিল, দীর্ঘ বিরতিতে মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি ঘটবে, ফলে সাগরে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের প্রাচুর্য দেখা যাবে। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

জেলেদের ভাষ্য, একটি বড় ট্রলার নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে গেলে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিন অবস্থান করতে হয়। প্রতিটি ট্রলারে ২০ থেকে ২৫ জন মাঝিমাল্লা থাকেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, বরফ, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য রসদ বাবদ প্রতিটি ট্রিপে ব্যয় হয় প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। একটি ট্রিপ লাভজনক করতে অন্তত ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ বিক্রি প্রয়োজন হলেও ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পরে অনেক ট্রলারই খরচের টাকাও তুলতে পারেনি।

এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মালিক করিম আলী বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার পর বড় আশা নিয়ে সাগরে গিয়েছিলাম। মাছ শিকারের জন্য ১২ দিন সাগরে অবস্থান করেও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাইনি।

শহরের সবচেয় বড় ফিশারীঘাটস্থ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। ওই কেন্দ্রের মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, গত ২ যুগ ধরে তিনি মৎস্য ব্যবসায় জড়িত। অথচ বর্তমানে ইলিশের যে সংকট রয়েছে তা কখনো দেখেননি। ফেরত আসা সবকয়টি ট্রলারে বিভিন্ন প্রজাতির স্বল্প সংখ্যক মাছ ছিল। এর মধ্যে প্রতি ট্রলারে ইলিশের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০-১২টি। তাও আকারে খুবই ছোট্ট। কেজির ঊর্ধ্বে এসব ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ২৪০০ থেকে ২৮০০ টাকা। অন্যান্যগুলো ৬-৮টিতে কেজি। বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকা কেজিতে।

তিনি বলেন, অন্যান্য বছর জুন মাসের শেষে এসে কক্সবাজারে ইলিশের সয়লাব হয়ে উঠতো। কিন্তু এবার তা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights