কার পাপে খেল কাকে?
অনলাইন ডেস্ক
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ও তরুণদের তুমুল আন্দোলনের মুখে গত শনিবার দুপুরে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
এই পুরো আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামের একটি নতুন রাজনৈতিক দল, যার প্রতিষ্ঠাতা তরুণ অভিজিৎ দিপকে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর দিল্লির যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে ধন্যবাদ জানান অভিজিৎ। তাঁর দাবি, প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য থেকেই মূলত এই নজিরবিহীন আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল।
গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেছিলেন যে, তেলাপোকার মতো অনেক বেকার ও পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠা না পাওয়া তরুণ রয়েছে। যদিও পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন যে তাঁর ওই বক্তব্য বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়, বরং আইনের ভুয়া ডিগ্রিধারীদের লক্ষ্য করে বলা হয়েছিল এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশ তা ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু ততক্ষণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ১৬ মে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অবস্থানরত ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ ‘এক্সে’ বিদ্রূপাত্মক প্রতিক্রিয়া জানান এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি ব্যঙ্গ করে বেকারত্ব ও অলসতাকে দলটির সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করেন, যা ভারতের তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
মে মাসের শেষের দিকে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও জোরালো হয় এবং জুনের শুরুতে অভিজিৎ ভারতে ফিরে যন্তর মন্তরে আন্দোলনের নেতৃত্ব শুরু করেন। ২৮ জুন শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। ২৬ দিন অনশনের পর তিনি তা প্রত্যাহার করলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকে সিজেপি।
সরকারের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করা, সংসদে পরীক্ষা সংস্কারের বিষয় উত্থাপন এবং আত্মঘাতী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যান সিজেপির কর্মীরা। শেষ পর্যন্ত প্রবল চাপের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা এবং রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যেন পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেদিক বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
