কাস্টমসের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এনবিআর

রাশেদ হোসাইন

দেশের বিমানবন্দর ও শুল্ক স্টেশনগুলোতে তল্লাশি প্রক্রিয়া জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কাস্টমসের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে কেনা হচ্ছে ২৯টি অত্যাধুনিক এক্স-রে স্ক্যানার। এর মধ্যে রয়েছে ২৩টি ডুয়াল ভিউ ব্যাগেজ স্ক্যানার এবং ৬টি ডুয়াল ভিউ প্যালেট কার্গো স্ক্যানার। চোরাচালান প্রতিরোধ, রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং আন্তর্জাতিক প্রবেশপথগুলোতে দ্রুত শুল্কায়ন সেবা নিশ্চিতে এসব স্ক্যানার ক্রয় করা হচ্ছে। দুই ধরনের স্ক্যানার সরবরাহের জন্য ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশের নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। এসব স্ক্যানার কেনায় এনবিআরের মোট খরচ হচ্ছে ৫৬ কোটি ২৭ লাখ ১ হাজার ৫০৪ টাকা।

এনবিআরের তথ্য অনুসারে, স্ক্যানারগুলো সরবরাহ, স্থাপন, কমিশনিং ও পরীক্ষার দায়িত্ব পেয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আপডেট অ্যাভিয়েশন লিমিটেড। গত ২৭ আগস্টে এনবিআরের কাস্টমস আধুনিকায়ন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে দুইটি পৃথক নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড জারি করা হয়। চিঠি দুইটিতে স্বাক্ষর করেছেন এনবিআরের সদস্য (কাস্টমস : অডিট, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য) ড. মো. আল আমীন প্রামাণিক। এতে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন এনবিআরের সদস্য (কাস্টমস : পলিসি ও আইসিটি) মুহাম্মদ মুবিনুল কবির। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জমা পড়া দরপত্রের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৩টি ডুয়াল ভিউ এক্স-রে ব্যাগেজ স্ক্যানার কিনতে খরচ হচ্ছে ৩২ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার ৭৬৩ টাকা। এই দরপত্রের বিপরীতে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৩ কোটি ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৭৬ টাকার পারফরম্যান্স সিকিউরিটি জমা দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ৬টি ডুয়াল ভিউ এক্স-রে প্যালেট কার্গো স্ক্যানার সরবরাহের জন্য চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ১০ হাজার ৭৪১ টাকা। এই কাজের পারফরম্যান্স সিকিউরিটি হিসেবে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৮১ হাজার ৭৪ টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উভয় চুক্তির জন্য চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর।

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, ডুয়াল ভিউ প্রযুক্তির ব্যাগেজ স্ক্যানার চালু হলে যাত্রীদের লাগেজ পরীক্ষা করা সহজ হবে। এতে করে বিমানবন্দরে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় অনেকটাই কমে আসবে। ব্যাগেজে থাকা সোনা, অবৈধ মুদ্রা বা বেআইনি পণ্য সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে প্যালেট কার্গো স্ক্যানারের মাধ্যমে এয়ার কার্গো টার্মিনাল ও আইসিডিতে বড় আকারের বাণিজ্যিক পণ্য না খুলেই স্ক্যান করা যাবে। ফলে কায়িক তল্লাশি কমবে এবং শুল্ক ফাঁকির সুযোগ বন্ধ হবে। সব মিলিয়ে দেশের প্রবেশপথগুলোতে বাণিজ্য সহজীকরণের পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব সুরক্ষাও জোরদার হবে।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, কাস্টমসে আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এই বিনিয়োগ কেবল শুল্ক স্টেশনগুলোর নিরাপত্তাই বাড়াবে না, বরং পণ্য খালাসে সময় ও খরচ কমিয়ে ইজ অব ডুইং বিজনেস নিশ্চিত করবে। প্রযুক্তি নির্ভরতার ফলে একদিকে যেমন রাজস্ব ফাঁকি ও চোরাচালান বন্ধ হবে, অন্যদিকে জাতীয় অর্থনীতিতে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights