রাবির ভর্তি পরীক্ষায় বিধিবহির্ভূতভাবে বাবা পরিদর্শক, সুবিধা পেলেন ছেলে
রাবি প্রতিনিধি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় বিধিবহির্ভূতভাবে বাবার দায়িত্ব পালনে ছেলের সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লিখিত পরীক্ষায় পিছিয়ে থাকলেও ব্যবহারিক পরীক্ষায় এগিয়ে থাকায় ভর্তির সুযোগ হয়েছে ছেলের। ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। এ নিয়ে সন্তানের ভর্তি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘সি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার কো-অর্ডিনেশন কমিটির কো-অর্ডিনেটর ও ব্যবহারিক অংশের পরিচালনা কমিটির সদস্য শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মুনিরুল হক। তার ছেলে আব্দুল্লাহ জুবায়ের এই পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছু ছিলেন এবং ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষায় ৪৭ পেয়ে ৩ হাজার ২৫৫তম হন। পরে শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪০ নম্বরের মধ্যে ৩১ নম্বর। ফলে ৭৮ নম্বর পেয়ে নিজ গ্রুপে অষ্টম হন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে, কোনো শিক্ষকের সন্তান অথবা নিকটাত্মীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলে বিষয়টি লিখিতভাবে প্রশাসনকে জানাতে হয়। এতে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা চলাকালে ওই শিক্ষককে সেই পরীক্ষার্থীর কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট ভবনে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখেন।
অভিযোগ উঠেছে, বাবা ভর্তি পরীক্ষার কো-অর্ডিনেটর ও পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকায় ছেলে অতিরিক্ত সুবিধা পেয়েছেন। তা ছাড়া তিনি তথ্য গোপন করে বিধি লঙ্ঘন করেছেন।
এ ব্যাপারে ড. মনিরুল হক বলেন, ছেলের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রশাসনকে আগে জানানো উচিত ছিল। তবে আমি সরাসরি ছেলের মূল্যায়নে যুক্ত ছিলাম না, তাই জানানো হয়নি। তা ছাড়া রিটেন পরীক্ষায় আমি ছেলের কক্ষে ছিলাম না। ব্যবহারিক পরীক্ষায় বিভাগের সভাপতি হিসেবে পরিদর্শনে ছিলাম। তবে নম্বর-সংক্রান্ত কাজে আমি ছিলাম না।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। তিনি বলেন, পোষ্য কোটার কবর রচিত হয়েছে। এখন এমন অভিযোগ মেনে নেওয়া যায় না। অবশ্যই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে হবে।
