কুমিল্লা নগরীতে নৌকায় চড়ে কেন্দ্রে গেলেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

কুমিল্লা প্রতিনিধি

টানা ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লা নগরীতে নৌকায় চড়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের। সোমবার কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা এ দুর্ভোগে পড়েন।

রাতভর টানা বৃষ্টিতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে কুমিল্লা নগরী। মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকা তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমে সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন পরীক্ষার্থী, নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা।

সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে সকালেই নগরীর অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে চলে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং কর্মস্থলে যেতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন কর্মজীবীরা। কাকভেজা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে দেখা যায়। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেক অভিভাবক।

নগরীর লাকসাম রোড, জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর ও শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ে। কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও পানি প্রবেশ করে। ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। জলাবদ্ধতার সুযোগে অনেক রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক কয়েক গুণ ভাড়া বাড়িয়ে দেন। ১০ টাকার ভাড়া আদায় করা হয় ৫০ টাকা পর্যন্ত।

এইচএসসি পরীক্ষার্থী উম্মে কুলসুম বলেন, বাসা থেকে এক ঘণ্টা আগে বের হলেও কলেজে পৌঁছানোর আগেই তার জামাকাপড় ভিজে যায়। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয়েছে নৌকায় চড়ে।

পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার সময় ৩০ মিনিট বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে জানানো হয়, এ কেন্দ্রে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো আর অনুষ্ঠিত হবে না।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন। এ সময় তারা নৌকা ঠেলে ও ভ্যান টেনে পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে পৌঁছাতে সহায়তা করেন। পাশাপাশি লাকসাম রোডের খালসহ বিভিন্ন খাল ও ড্রেনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণের উদ্যোগ নেন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কাজী আপন তিবরানী জানান, জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের নিচতলায় যেসব পরীক্ষার্থীর আসন ছিল, তাদের চারতলায় স্থানান্তর করা হয়েছে, যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা নেওয়া যায়। তিনি আরও জানান, এ কেন্দ্রে পরবর্তী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের নিয়ন্ত্রণে নয়। তবে খাল দখল ও জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অবৈধ স্থাপনার কারণেই জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights