কৃতির পোশাকের ‘উত্তাপ’ ছড়াল ভারতের রাজনীতিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

একটি জুয়েলারি ব্র্যান্ডের রাখিবন্ধন বিজ্ঞাপনে বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যাননের পোশাককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন ভারতের রাজনৈতিক ময়দানে তীব্র বাগ্‌যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। কৃতির একটি ডিপ-নেক ব্লাউজ ও কেপ পরা আইভরি লেহেঙ্গার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। মান্ডির বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত কৃতি স্যাননের ওই পোশাককে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অদ্ভুত’ (ইন্টেনশনালি ক্রিপি) বলে সমালোচনা করেন, আবার নেটিজেনদের একাংশ এটিকে ‘অশালীন’ বলেও দাবি তোলেন।

বিতর্কের মুখে পড়ে গত মঙ্গলবার কৃতি স্যানন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, নারীরা কী পরবেন তা ঠিক করে দেওয়া বন্ধ হবে কবে। কৃতি স্যাননের সেই ইনস্টাগ্রাম স্টোরিটি ট্যাগ করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি তার সমর্থনে এগিয়ে আসেন। রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, একজন নারী কী পরবেন, কী করবেন কিংবা কোথায় যাবেন—সেটা সম্পূর্ণ তার নিজস্ব পছন্দ। নারীদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও ট্রোলিং বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ (পিতৃতন্ত্রকে ধ্বংস করো) হ্যাশট্যাগটি ব্যবহার করেন।

রাহুলের এই মন্তব্যের পরই কঙ্গনা রানাওয়াত ও বিজেপি শিবির থেকে পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়। কঙ্গনা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে রাহুল গান্ধীর একটি কাল্পনিক ছবির কথোপকথন তুলে ধরা হয়। সেখানে রাহুল গান্ধী এক নারীকে ‘স্ম্যাশ দ্য প্যাট্রিয়ার্কি’ বলার বার্তা দিতে দেখা গেলেও, সেই নারী উত্তর দিচ্ছেন— ‘ব্রো, ওয়েট! আগে ভারত মাতা কি জয় বলা শুরু করি।’ এই পোস্টে কঙ্গনা ও বিজেপি সমর্থকরা তুলে ধরেন কীভাবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন রাজ্যে নারীদের প্রতিনিধিত্বের অভাব রয়েছে। বিশেষ করে কর্ণাটকের মতো কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে কোনো নারী মন্ত্রী না থাকা, কর্ণাটক ও হিমাচল প্রদেশে যোগ্য নারী নেতৃত্বের অভাব, নারী সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করা এবং শাহ বানু মামলা থেকে শুরু করে তিন তালাক প্রসঙ্গ তুলে রাহুলের নারী ক্ষমতায়নের সুরকে কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ জানানো হয়।

প্রতিবাদের হাওয়া আরও তীব্র করে বিজেপির আরেক সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যখন কংগ্রেস নেতারা স্বয়ং কঙ্গনা রানাওয়াতকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, কিংবা হেমা মালিনীকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন, এমনকি অধীর রঞ্জন চৌধুরী যখন ভারতের রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করেছিলেন—তখন রাহুল গান্ধী পুরোপুরি নীরব ছিলেন। নিজ দলের নেতাদের এমন আচরণ এবং অতীতে নারী সংরক্ষণ বিলে বাধা সৃষ্টি করার পর রাহুলের মুখে ‘পিতৃতন্ত্র ধ্বংসের’ কথাকে বাঁশুরি স্বরাজ চরম ভণ্ডামি বলে অ্যাখ্যা দেন।

বিতর্কের শুরুটা হয়েছিল ২২ আগস্ট পুণেতে আয়োজিত ‘ছাত্রদের গূঞ্জ’ অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য এবং তার পরপরই কৃতি স্যাননের বিজ্ঞাপন ঘিরে। তবে তীব্র জনরোষ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতিতে আঘাত হানার প্রতিবাদের মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট জুয়েলারি ব্র্যান্ড ‘জিভা’ (GIVA) ইতিমধ্যেই তাদের বিজ্ঞাপনটি তুলে নিয়েছে। সংস্থাটি সাফাই দিয়ে জানিয়েছে, কোনো ধর্মীয় বা সামাজিক অনুভূতিতে আঘাত করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। তা সত্ত্বেও, একটি ফ্যাশন বিজ্ঞাপনকে ঘিরে শুরু হওয়া এই লড়াই এখন ভারতের জাতীয় রাজনীতির মূল চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights