নেপালে হঠাৎ ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল-ভূমিধসের কারণ জানালেন মন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
নেপালে ভয়াবহ ভূমিধসের সূত্রপাত ভূমিকম্প থেকে হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল। তার ভাষ্য, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটের দিকে ওই এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর ভূমিকম্পের প্রভাবে তুষারধসের সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকেই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত ঘটে।
নেপালের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এ কথা জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাপ্রবাহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো এখনও তথ্য যাচাই করছে। ফলে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও যাচাইয়ের পর স্পষ্ট হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের পর তুষারধস এবং আকস্মিক বন্যার কারণে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী চীনেও ‘বিপুল ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে জানান তিনি।
নেপাল সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলেও জানান খানাল। সীমান্তবর্তী এলাকায় দুর্যোগের প্রভাব পড়ায় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিখোঁজ
দুর্যোগের পর নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি জানান, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ২৬ জন পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সেনাসদস্যের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া শুল্ক ও অভিবাসন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তাও নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্যোগের ভয়াবহতার কারণে দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সড়ক, সেতু ও যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতি
ভূমিকম্প, তুষারধস ও আকস্মিক বন্যার আঘাতে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সড়ক ও সেতুর পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিশেষ করে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি মূল্যায়নের পর দুর্যোগের মাত্রা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব পাওয়া যাবে।
এদিকে, নেপাল সরকার চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে। দুর্গত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এবং আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে জরুরি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভয়াবহ এই পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তত ২২ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ আরও অন্তত ৩৮৪ জন। সূত্র: বিবিসি
