কৃষিতে বাড়ছে তরুণদের আগ্রহ, ডিপ্লোমা নিয়ে হচ্ছেন উদ্যোক্তা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
একসময় কৃষি নিয়ে পড়াশোনাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। কৃষিশিক্ষা নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার কথা শুনে অনেকে হাসাহাসিও করতেন। তবে সেই ধারণা এখন বদলাচ্ছে। কৃষিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে তরুণদের অনেকে উদ্যোক্তা হচ্ছেন, গড়ে তুলছেন নিজেদের কর্মসংস্থান। কেউ কেউ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে হচ্ছেন স্বাবলম্বী।
কুমিল্লা অঞ্চলে কৃষিশিক্ষা বিস্তারে প্রথম দিকের উদ্যোগগুলোর একটি কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজ। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির যাত্রার শুরুতে শিক্ষার্থী পাওয়া কঠিন ছিল। তখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষিশিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে হতো। বর্তমানে কুমিল্লার কোটবাড়ি চৌরাস্তা-সংলগ্ন ধনপুরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছে। এ পর্যন্ত এখান থেকে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের অধিকাংশই উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। বাকিরা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
সম্প্রতি সরেজমিনে কলেজটিতে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে পাঠ নেওয়ার পর শিক্ষার্থীরা মাঠে চাষ করা সবজি ও মসলার আগাছা পরিষ্কার করছেন। শিক্ষক তাঁদের বিভিন্ন ফসলে কী পরিমাণ জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে এবং ফসলের বিভিন্ন পর্যায়ে কী ধরনের পরিচর্যা প্রয়োজন, সে বিষয়ে ধারণা দিচ্ছেন। পাশাপাশি পরীক্ষাগারে চলছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। পাশের পুকুরে মাছ চাষ এবং খামারে গবাদিপশুর রোগব্যাধি নিয়েও চলছে আলোচনা।
প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চর আবাবিল গ্রামের শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বর্তমানে স্থানীয় একটি স্নাতকোত্তর প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। তিনি বলেন, এ কলেজে এসে যে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন, তা তাঁকে সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার দুয়ারিয়া গ্রামের মো. এখলাছুর রহমান ২০১০ সালে কলেজটি থেকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি গবাদিপশু ও মাছের ওষুধ উৎপাদনকারী একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বলেন, এখানকার ডিপ্লোমা কোর্সের পাঠ্যবই বেশ সমৃদ্ধ। বইগুলো ভালোভাবে পড়াশোনা করলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
কলেজের শিক্ষক অরুণা বেগম, শাফায়েত হোসেন ও ডা. এনাম আহমেদ বলেন, কৃষিতে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের ২৮টি খাতে চাকরির সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের মতে, পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে অনেকেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে পারছেন। বিদেশেও তাঁদের কাজের সুযোগ রয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রশিক্ষিত জনবল ছাড়া এ খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই কৃষিভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
কলেজের প্রশিক্ষক মো. শাহ আলম বলেন, শ্রেণিকক্ষে তাত্ত্বিক পাঠদানের পাশাপাশি মাঠে হাতে-কলমে সবজি চাষ, মাছ চাষ ও গবাদিপশু পালনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পশুপাখির রোগব্যাধি এবং সেগুলোর পরিচর্যা সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।
কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী বলেন, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত প্রথম দিকের কৃষিশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তাঁদের কলেজ একটি। তাঁরা শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তা তৈরিতেও কাজ করছেন। এখানে পড়াশোনা করে বেকার রয়েছেন, এমন উদাহরণ খুব কম বলে দাবি করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে স্নাতক পর্যায়ে উন্নীত করার স্বপ্নও রয়েছে তাঁর।
